মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি মোটা চাল ইরি বা স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে শুধু মোটা চালই নয়, মাঝারি মানের ও সরু চালও বর্তমানে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে করোনার এই সময়ে চালের দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের।  গতকাল সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে চালের এই দর জানা যায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরও বলছে, বর্তমানে খুচরা বাজারে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজির নিচে মোটা চাল নেই।

তবে সরকারের এই সংস্থার হিসাবে ব্যবসায়ীদের বাড়তি মুনাফার কারণেই এত বেশি দামে বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে মাঝারি মানের চাল পাইজাম ও লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা, সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারের আরেক সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক বছরে মোটা চালের                 দাম ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মাঝারি মানের চাল ৬ শতাংশ এবং সরু চালের দাম ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে। যদিও চলতি বছর বোরো উত্পাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত বোরো মৌসুমে চাল উত্পাদন হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০৮ টন, যা এযাবত্কালের সর্বোচ্চ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর বোরোর উত্পাদন গত বছরের তুলনায় ১১ লাখ টনেরও বেশি হয়েছে। গত বছর উত্পাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উত্পাদন হয়েছে। এবার বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সব মিলিয়ে এই উত্পাদন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার পরও চালের দাম বেশি।

রাজধানীর নতুন বাজারের খুচরা চালবিক্রেতা সাদ্দাম বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বেশি, তাই খুচরায়ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনার এই সময়কে পুঁজি করে অধিক মুনাফার আশায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী চাল মজুত করছেন। এই চক্রই চালের দাম বাড়াচ্ছে।

এদিকে বাজারে চালের দাম বাড়ায় শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষও খাদ্য অধিদপ্তর ও টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক ও দোকান থেকে কম দামে চাল, আটা, তেল, চিনি ও মসুর ডাল কিনছেন। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ও রাজধানীর বাইরে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শ্রমজীবী মানুষ এসব নিত্যপণ্য সংগ্রহ করছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএসের চাল কেনার জন্য চন্দ্রা মোড়ে ফ্লাইওভারের নিচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শেফালী বেগম বলেন, ‘এখানে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল এবং ১৮ টাকা কেজিতে খোলা আটা বিক্রি করছে সরকার, যা বাজারের থেকে অনেক কম। তাই কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে এখন গার্মেন্টসও বন্ধ। কবে যে খুলবে জানি না। কাজ না করলে তো বেতনও পাব না। তাহলে কীভাবে আমাদের সংসার চলবে?’

রাজধানীর জুরাইনে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি করেন শাহ আলম। তিনি বলেন, খাদ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিন দেড় টন চাল ও এক টন আটা বরাদ্দ দেয় বিক্রির জন্য। কিন্তু প্রতিদিন এত মানুষ চাল ও আটা কেনার জন্য আসে যে, এই বরাদ্দে হয় না। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য তিনি জানিয়েছেন বলে জানান। একই কথা বললেন রামপুরা বাজার এলাকার ডিলার সাইদুল আলম। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে মানুষের হাতে এখন টাকাপয়সা নেই। তাই ওএমএসের কম দামে চাল, আটা কেনার জন্য প্রচুর ভিড় হয়। তিনি বলেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওএমএসের চাল, আটা বিক্রির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও দুপুরের মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

টিসিবির পণ্য বিক্রি আবার শুরু

স্বল্প আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ঈদের পর গতকাল সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি বিভিন্ন নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে। সারা দেশে ৪৫০টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি চিনি ও মসুর ডাল ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি ও দুই কেজি ডাল কিনতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। একজন ক্রেতা দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার নিতে পারবেন। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে টিসিবির এই পণ্য বিক্রির কার্যক্রম।