দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো দিনের কিছু সময় ফের বন্ধ রাখতে যাচ্ছে সরকার। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন বিদ্যুতের পিক আওয়ারে (চাহিদা বেশি থাকার সময়) ছয় ঘণ্টার জন্য এগুলো বন্ধ থাকবে। বিদ্যুেকন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিগিগরই সিএনজি স্টেশন মালিকদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
গ্যাসসংকটের কারণে দেশে বিভিন্ন সময়ে সিএনজি স্টেশন রেশনিং (দিনের কিছু সময় খোলা, কিছু সময় বন্ধ) করে পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ঈদুল আজহার সময় রেশনিং উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর ফের তা চালু করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুতের পিক আওয়ারে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতেই এ পরিকল্পনা। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রমও চলবে।’
বিদ্যুেকন্দ্রে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে গত জুনে একটি কমিটি গঠন করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এই কমিটি বিদ্যুেকন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে পিক আওয়ারে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেয়। চলতি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ প্রস্তাবে সায় দিয়ে অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, ঐ ছয় ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা হলে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে। এ গ্যাস বিদ্যুেকন্দ্রে সরবরাহ করা যাবে।
পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর চাহিদা পূরণে দৈনিক ২ হাজার ২৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দরকার। জ্বালানিভেদে কেন্দ্রগুলো রেশনিং করে চালালে তা ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। এর বিপরীতে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সাধারণত গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় কেন্দ্রগুলোরও চাহিদা বাড়ে। শীতে চাহিদা কমে যায়।
এদিকে সিএনজিতে দৈনিক ছয় ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে এ খাতে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাবে। এর ফলে আমদানিকৃত এলএনজির মূল্য পরিশোধে পেট্রোবাংলার ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে তা বেড়ে যাবে। কেননা, বর্তমানে যে কয়টি খাতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে তারমধ্যে এলএনজির বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম পরিশোধ করে শুধু সিএনজি স্টেশনগুলো। অন্য খাতের গ্রাহকদের জন্য ভর্তুকি কিংবা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিক্রি থেকে পাওয়া লাভের অর্থ সমন্বয় করা হচ্ছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর জানান, তারা গতকাল পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বা চিঠি পাননি।