মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গত সোমবারের পর
গেজ বোসন কণাগুলো হচ্ছে ফোটন, ডব্লিউ পাস, ডব্লিউ মায়নাস, জি নট, গুঅন এবং গ্র্যাভিটন। এর মধ্যে কোয়ার্ক ও ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক ফোটন বিনিময়ের মাধ্যমে তড়িেচৗম্বক বল কার্যকর হয়। আর ডব্লিউ পাস ও ডব্লিউ মায়নাস সকল ফার্মিয়নের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়ের ফলে দুর্বল নিউক্লিয় বল কার্যকর হয়। শুধু কোয়ার্কের মধ্যে গুঅন বিনিময়ের ফলে সবল নিউক্লিয় বল কার্যকর হয়। আর মহাকর্ষবল কার্যকর হয় সকল বস্তুকণার মধ্যে গ্র্যাভিটন বিনিময়ের ফলে। তবে গ্র্যাভিটনের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনও। এর মধ্যে শুধু ডব্লিউ এবং জিনট কণার ভর আছে। বাকি ফোটন, গুঅন এবং গ্র্যাভিটনের ভর নেই।
কমলা বললেন-এত্তোসব আমরা বুঝব কী করে!
নীলকান্তবাবু বললেন-সব বিষয়গুলো সবার না বুঝলেও হয়, তবে বিজ্ঞানের সাধনার জন্য সবগুলো বুঝতে হবে।
সীমা বলল-আমি কিছুটা বুঝেছি, তবে পুরোপুরি নয়।
অণু বলল-একবার শুনেই সবগুলো বুঝে নেয়ার আশা করাটা তো ঠিক নয়, শুনতে হবে, মনে রাখতে হবে, আবার পড়তে হবে।
কিন্তু হিগস বোসন তো বললে না মামা, আকাশ বলল।
বলছি, হিগস বোসন কণার ভর আছে। এর আধান নেই এবং স্পিন শূন্য। কোনও কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করলে এতে ভর সৃষ্টি হয়। ফলে চলার গতি হ্রাস পায়।
কিন্তু হিগস ক্ষেত্রটি আবার কী? রেখার প্রশ্ন।
হিগস ক্ষেত্র হচ্ছে সমগ্র মহাশূন্যব্যাপী বিস্তৃত একটা তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র। বিগব্যাং এর পর মহাবিশ্ব যখন কিছুটা ঠাণ্ডা হয়, তখন হিগস ক্ষেত্র তৈরি হয়। হিগস ক্ষেত্র না থাকলে মহাবিশ্বে সব কিছুই শক্তি অবস্থায় থাকত, কোনও ভর সৃষ্টি হতো না এবং মহাকর্ষীয় আকর্ষণও থাকত না। মহাবিশ্ব সমপ্রসারণের সাথে সাথে হিগস ক্ষেত্রও প্রসারিত হচ্ছে। ১৯৪৯ সালে বিজ্ঞানী পিটার হিগস (Peter Higgs) ও পাঁচ সহযোগী মিলে হিগস বোসন কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন এবং ২০১৩ সালে সুইজারল্যান্ডের সার্ন (CERN) এর লার্জ হ্যাডরন কলাইডার (Large Hadron Collider) বা LHC যন্ত্রে হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এই কাজের জন্য ২০১৩ সালে পিটার হিগস ও ফ্রানকোসিস এঙ্গলার্ট (Francosis Englert) কে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
কিন্তু কাজ তো করলেন পাঁচজন, দুইজনকে কেন পুরস্কার দেয়া হলো? আকাশ বলল।
নীলকান্তবাবু বললেন-হ্যাঁ, যারা কাজ করেছেন, তাদেরকেও পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে তিনজনের বেশি দেওয়া হয় না। এর জন্য সবচেয়ে বেশি যাদের অবদান, সেই দুইজনকেই দেওয়া হলো।
চন্দ্রা বলল-অন্তত তাঁদের নামটা থাকা দরকার ছিল।
তাঁদের নাম থাকলে এই কণার নাম হতো ব্রাউন-এঙ্গলার্ট-হিগস-কিবল-গুরালনিক-হাগেন-বোসন কণা।
এত্ত বড় নাম? বিন্দু বলল।
তোমরাই বলো, এত বড় নাম গ্রহণযোগ্য হতো? আর তাছাড়া হিগস এর এক ছাত্র গবেষণাপত্র লেখার সময় প্রথম হিগস-বোসন নামটা ব্যবহার করায় সেই নামটিই পরিচিতি পেয়েছে।
কিন্তু ঈশ্বরকণা নামটা কী করে এলো? কমলা প্রশ্ন তুললেন।
এটিও মজার ঘটনা, বললেন নীলকান্তবাবু। ১৯৯৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান (Leon Lederman) সাধারণ মানুষকে বোঝানোর জন্য হিগস-বোসন নামে একটি বই লিখেন।