তারুণ্য মানেই শক্তি। প্রবীণের প্রজ্ঞা ও পরামর্শ নবীনের শক্তি, সাহস ও উদ্দীপনায় পৃথিবীতে আসে পরিবর্তন। অসম্ভবকে সম্ভব করতে ঝুঁকি নিতে পারে শুধু তারুণ্য। প্রথা ভাঙায় দুঃসাহস দেখাতে পারে শুধু তরুণরা। তরুণদের নিয়ে এসব কথা যে কেবল ভাবাবেগ নয় তা আবারও প্রমাণ করলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের একদল তরুণ। কোভিডের এই দুঃসময়ে গ্রামের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ শিক্ষার্থী ঘরে বসে না থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামের লোকজনকে ভ্যাক্সিন গ্রহণের সুফল সম্পর্কে সচেতন করেছেন। পরে ওই তরুণেরা এলাকাবাসীকে ভ্যাক্সিনের জন্য নিবন্ধন করে দেন। নিবন্ধন কার্ড প্রিন্ট করে তাদের টিকাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ইতোমধ্যে এই গ্রামের অধিকাংশ লোক টিকার প্রথম ডোজ সম্পন্ন করেছেন। আর এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালিদ হাসান খোকন ও ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল।
তরুণ শিক্ষক খালিদ হাসান খোকন জানান, মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই কাজটি হাতে নেই। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ ভ্যাক্সিন সম্পর্কে বেশ উদাসীন। তাদের মাঝে ভ্যাক্সিন গ্রহণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই রুবেল প্রথমে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সচেতনতা ও করোনার টিকার নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে কথা বলেন। সেই আলোকে শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রমে গ্রামের প্রায় অধিকাংশ নারী-পুরুষ আজ ভ্যাক্সিন গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন।
তাদের জন্য এই কাজটি করা কতটা কঠিন ছিল সে বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘ছেলেদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার আয়তনের গ্রামটিতে অনেকগুলো পাড়া এবং প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস। আমরা সেচ্ছাসেবকদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে দেই। গ্রুপের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা কার্ড প্রিন্ট করে পৌঁছে দেয় এবং নিবন্ধনধারীদের টিকা কেন্দ্রে গিয়ে ভ্যাক্সিন গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের এই কাজ শতভাগ শেষ হওয়া না পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’