আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
অতি বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোয়ারে আমতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমতলীর পায়রা নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অন্য দিকে আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জানা গেছে, অতিবর্ষণ ও পূর্ণিমার জোর প্রভাবে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় আমতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিতে মাঠ-ঘাট থইথই করছে। তলিয়ে গেছে আউশের ধানখেত ও আমনের বীজতলা।
স্লুইসগেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় উপজেলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা না গেলে আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এদিকে জোয়ারের পানিতে বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম ঘটখালী, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া এলাকার পায়রাসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় গাজীপুর বন্দর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
আমতলী পৌরশহরের আমতলী সরকারি কলেজ, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার পায় ২৯ হাজার ৭০০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার আলম বলেন, পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চর ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে; কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পানি ভেতরে প্রবেশ করেনি। তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আগেই সংস্কার করা হয়েছে।