ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
ইত্তেফাক ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সড়কে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। কারণে-অকারণে লোকজন বাইরে বের হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছেন চলাচল নিয়ন্ত্রণে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
বাগেরহাট :কঠোর লকডাউনের পঞ্চম দিন গতকাল মঙ্গলবার বাগেরহাট জেলা ও উপজেলা শহরের হাট-বাজারের অধিকাংশ দোকাপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সকাল থেকে শহরে টহল দেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসবের ফাঁক গলিয়ে সড়ক-মহাসড়কে মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত নসিমন-করিমন, রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে। মোংলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খোলা রয়েছে বন্দরের শিল্প এলাকার কিছু কিছু কলকারখানা। সকালে মোংলার মামার ঘাট দিয়ে খেয়া পার হয়ে সেসব কারখানায় যেতে দেখা গেছে শ্রমিক-কর্মচারীদের। জেলা ও উপজেলা সদরে লোক ও যানবাহন চলাচল প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮৬ জনকে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং এক জনকে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
মাগুরা :মঙ্গলবার মাগুরায় সকাল থেকে কঠোর লকডাউন চলছে। শহরে লোক চলাচল একেবারেই কম। শহরের প্রবেশপথে এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। শহরের সমস্ত মার্কেট, শপিং মল, দোকানপাট বন্ধ থাকে। বন্ধ রয়েছে সমস্ত গণপরিবহন। তবে শহরে কিছু ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেল চলচাল করছে।
চাটমোহর (পাবনা) :মঙ্গলবারও পাবনার চাটমোহরে ঢিলেঢালা লকডাউন চলেছে। মানুষের মধ্যে বিধিনিষেধ মানতে অনীহা দেখা গেলেও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যানবাহন আর লোকজনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী টহল দিয়েছে। পরিচালিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার পরও রাস্তাঘাট, বাজারেও অসংখ্য মানুষ চলাচল করেছে। অনেকেই অকারণে বাইরে বের হয়েছে। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি।
সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছি বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে। যারা লকডাউন মানতে অনীহা দেখাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দুমকি (পটুয়াখালী) :দুমকিতে সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ আবদুল্লাহ সাদীদ লকডাউনের পঞ্চম দিনে উপজেলার লেবুখালী ফেরিঘাটে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের ১৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং মাইক্রোচালক আফজাল হোসেনকে (৪০) ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
সদরপুর (ফরিদপুর) :সদরপুর উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী ছিল কঠোর অবস্থানে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সরকারি আদেশ অমান্য করায় ৯ জনকে ৮ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল।