জন্মদিনে সজীব ওয়াজেদ জয়

আমি এখন মধ্যবয়সি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোয় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতির পিতার দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল মঙ্গলবার নিজের জন্মদিনে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমার বয়স এখন অর্ধশতক, বাংলাদেশের সমান। আওয়ামী লীগ সরকারের ১২ বছর পর বাংলাদেশ আজ একটি মধ্যম আয়ের, ডিজিটাইজড দেশ। আমি এখন একজন মধ্যবয়সি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা!’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় গতকাল মঙ্গলবার তার জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করলেন। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন জয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে জয়ের বড় ধরনের ভূমিকার কথা বলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র ধারণা জয়ের উদ্যোগেই যুক্ত হয়। আর তা তরুণ প্রজন্মের মন কেড়ে নেয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। এরপর মায়ের সঙ্গে ভারতে চলে যান। সেখানেই কাটে শৈশব ও কৈশোর। ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে পড়ালেখার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি নেন জয়। পরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন জয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন জয়। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হন। জন্মদিনে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় : তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দ্বিভাষিক গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, একই মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম এবং পাঁচ টাকা মূল্যের ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন। গতকাল থেকে ঢাকা জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে স্ট্যাম্প, উদ্বোধনী খাম এবং ডাটা কার্ড বিক্রি করা হবে এবং সেগুলো পরে দেশের অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘরে পাওয়া যাবে।

যুবলীগের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

করোনা ভাইরাসের কারণে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন পালিত হয়। জয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ ও দোয়া শেষে যুবলীগের উদ্যোগে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. রফিকুল ইসলাম ও মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও মো. জহির উদ্দিন খসরু, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দিনটি উপলক্ষ্যে সকালে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি : পথিকৃত্ মুজিব হতে সজীব’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। বিকালে ৩২ নম্বরের স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষক লীগ।