অভিনেত্রী রোমানা স্বর্ণার মামলার বাদী লাপাত্তা

১ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রোমানা স্বর্ণার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী বিদেশে চলে গেছেন। মামলাটির বাদী হলেন স্বর্ণার দ্বিতীয় স্বামী কামরুল ইসলাম জুয়েল। মামলার ঘটনায় পুলিশ স্বর্ণা, তার মা ও প্রথম ঘরের ছেলেসন্তানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর পর উলটো স্বামীই আদালতে তার জামিনের আবেদন করেন। স্বর্ণা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর  মামলার বাদী তার স্বামী সৌদি আরব চলে যান।

মামলার বাদী বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) দুলাল হোসেন বলেন, নায়িকা স্বর্ণার অর্থ আত্মসাতের মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে মামলার বাদী যে বিদেশে চলে গেছেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত নয়।

প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ১১ মার্চ অভিনেত্রী স্বর্ণাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন তার সৌদিপ্রবাসী স্বামী কামরুল ইসলাম জুয়েল। মামলার পরদিন লালমাটিয়ার বাসা থেকে স্বর্ণা, তার মা আশরাফি আক্তার শেলী (৫৭) ও রোমানার প্রথম সংসারের ছেলে আন্নাফি ইউসুফ ওরফে আনানকে (২১) গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার বাদী স্বর্ণার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ‘স্বর্ণা প্রথমে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর লালমাটিয়ায় ফ্ল্যাট কেনার নাম করে ১  কোটি ৯০ লাখ টাকা নেয়। আমি দেশে আসার পর আমাকে বাসায় ডাকে। আমি যাই। গেলে তারা আমাকে কিছু একটা খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর আমার খারাপ ছবি তুলে নেয় এবং আমার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সাইন নিয়ে নেয়। এভাবেই সে আমাকে জোর করে বিয়ে করে। তার মোবাইল, ঘড়ি, গাড়ি আর সবই আমার কিনে দেওয়া। আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে বললেও তা মিথ্যা। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (অপারেশন্স) দুলাল হোসেন বলেন, গ্রেফতার করার পর আদালত স্বর্ণার এক দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করে। তবে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে স্বর্ণাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার বেশ কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

ওদিকে, স্বর্ণা গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্বামী ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি প্রার্থনা করেন, ‘রোমানা স্বর্ণা তার স্ত্রী। দাম্পত্য কলহের জের ধরে তার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো প্রতারণার অভিযোগ নেই। তাকে জামিন দিলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।’

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্বর্ণা, তার মা ও প্রথম সংসারের সন্তান জামিনে মুক্তি পান।

স্বর্ণার পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকে জুয়েল তাকে অভিনয়জীবন থেকে সরে আসার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ হয়। সৌদিপ্রবাসী তার স্বামী বিদেশ থেকে ভরণপোষণের খরচও দিতেন না। এ কারণে তাকে অভিনয় ও মডেলিং করে সংসার চালাতে হতো। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জুয়েলের সঙ্গে একটি বোঝাপড়া হয়।

অন্যদিকে কামরুল ইসলাম জুয়েলের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, জুয়েল স্বর্ণাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন। তাকে স্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। গভীর ভালোবাসার কারণে স্বর্ণাকে কখনোই ডিভোর্স দিতে চান না। সৌদি আরব থেকে পাঠানো অর্থ দিয়েই স্বর্ণার নামে লালমাটিয়ায় ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। স্বর্ণাকে একটি প্রাইভেট কারও কিনে দিয়েছেন জুয়েল। পরে স্বর্ণা অধিক মাত্রায় মডেলিংয়ে জড়িয়ে পড়লে জুয়েল তাকে ফাঁসানোর জন্য মামলা ঠুকে দেন।

কে এই স্বর্ণা :নাম তার রোমানা ইসলাম স্বর্ণা। নিজেকে কখনো মডেল, কখনো অভিনেত্রী পরিচয়? দিতেন। খুলতেন ভিন্ন ভিন্ন ফেসবুক আইডি?। আপলোড করতেন রগরগে (আপত্তিকর) সব ছবি। এরপর প্রবাসীদের টার্গেট করে ফ্রেন্ড বানিয়ে গড়ে তুলতেন প্রেমের সম্পর্ক। তারপর কখনো স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, আবার কখনো স্বামীহীন সংসারে আর্থিক অনটনের কথা বলে প্রবাসী ঐ প্রেমিকদের কাছ  থেকে নিতেন টাকা। ‘রান আউট’ চলচ্চিত্রে তিনি নায়িকা। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকেও নায়িকার অভিনয় করেছেন। কয়েকটি পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রেও তিনি মডেল হয়েছেন।

স্বর্ণার সঙ্গে ধনাঢ্যদের বন্ধুত্ব করিয়ে দিতেন মারুফ আহমেদ খান রিজভী নামে এক ব্যক্তি। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বা রাতে বনানী, গুলশান বা নিকেতনে রিজভীর সঙ্গে দেখা করতেন স্বর্ণা। গুলশান ও বিমানবন্দর সড়কসংলগ্ন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আড্ডা হতো তাদের। এ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের বিল দিতেন রিজভীর সঙ্গে থাকা অতিথি। কখনো কখনো স্বর্ণা চলে যেতেন কলকাতায়। এই বিত্তশালীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন স্বর্ণা। নগদ উপহার পেলেও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক নানা সমস্যা, সংকটের কথা জানিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিতেন এই অভিনেত্রী।