পাবলিক সার্ভিস দিবসের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী

ভালো কাজে পুরস্কার আর মন্দ কাজে নিশ্চিত শাস্তি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে বলেন, ভাল কাজের জন্য যেমন তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে, তেমনি মন্দ কাজের জন্যও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উদযাপন এবং ‘জনপ্রশাসন পদক ২০২০ ও ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ গ্রহণ করেন তিনি। দেশের বয়স্ক নাগরিকদের কেউ যেন টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যে উন্নয়ন হয়েছে এবং বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে এটা আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার ফসল। আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি তারা সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন। তিনি এজন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা করতে গিয়ে গত এক দেড় বছরে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জয়ের জন্মদিন : প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জয়ের জন্মদিন নিয়ে ও স্মৃতিচারণ করেন। করোনার কারণে পুত্রের জন্মদিনে তার সঙ্গে থাকতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি । এ সময় পুত্রের নামকরণের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা কল্পনায় ফিরে যান ১৯৭১ সালে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, আমি তখন কেবল সন্তানসম্ভবা। পাকিস্তান দিবস হিসেবে ইয়াহিয়া খান তখন ঢাকায়। সারা বাংলাদেশে কেউ কিন্তু পাকিস্তানি পতাকা ওড়ায়নি। সব বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা । ৩২ নম্বরের বাড়িতেও সেদিন আমার বাবা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। আমি সাধারণত আমার বাবার হাতের নখ, পায়ের নখ কেটে দিতাম।  তিনি বৈঠক করে এসে যখন বিশ্রাম নিতে বসেছেন দুপুরে, আমি তখন তার পাশে এসে নখ কেটে দিচ্ছি। তিনি বলছেন, ভালো করে কেটে দে! আর এই সুযোগ পাবি কি না। তবে তোর ছেলে হবে এবং সেই ছেলে স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেবে। তার নাম রাখবি জয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জয়ের বয়স আজ ৫০ বছর হল। এই করোনার কারণে আমরা সবাই এক হতে পারলাম না। এটা বেশ বড় রকমের কষ্ট। ’

গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন :একই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। বইটির ইংরেজি সংস্করণের নাম ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: আ স্পিরিটেড গ্রেসফুল জার্নি’।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ ীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো সঙ্কট-দুর্যোগে একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করে। এই দুর্যোগকালে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবার করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনন্য নজীর সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, মানবতার সেবায় স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাবিশ্বে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে তাদের সেবা ও কল্যাণে কাজ করাই হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদের বড় কাজ। মানবসেবার এই কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন সংগঠনটির প্রথম সভাপতি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সভার শুরুতেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিগত এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে ৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং ‘স্বেচ্ছাসেবার এক বছর’ ২০১৯-২০২০ শিরোনামে প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে-বিদেশে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সব নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।