কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মহেশখালী ও টেকনাফে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচ রোহিঙ্গাসহ সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো দুই জন। মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন সময়ে এসব পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুনুর রশীদ। এছাড়া একই সময় ঢলের পানিতে গোসল করতে নেমে ভেসে গিয়ে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন—রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০-এর ব্লক জি-এর শাহ আলমের স্ত্রী দিল বাহার (৪২), তাদের ছেলে শফিউল আলম (৯), একই ক্যাম্পের মো. ইউসুফের স্ত্রী দিল বাহার (২৫), তাদের ছেলে আব্দুর রহমান (৩) ও মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১)। এছাড়া আহত হয় শাহ আলমের মেয়ে নুর ফাতেমা (১৪) ও ছেলে জানে আলম (৮)। এদিকে বানের পানিতে ভেসে ক্যাম্প-৮-এ মৃত্যু হয়েছে বাহার নামে এক শিশুর। কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার সামশুদ্দোজা নয়ন জানান, সোমবার দুপুর থেকে কক্সবাজারে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ চলছে। এ ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০-এর ব্লক-জি/৩৭-এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের মা-ছেলেসহ দুই জন ও অপর পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ তিন জন নিহত হন। প্রথম পরিবারের আরো দুই জন আহত হয়।
ক্যাম্পে কর্মরত ৮ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) সিহাব কায়সার খান জানান, খবর পেয়ে ১০ নম্বর ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালান। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। তাদের উদ্ধারের পরই ক্যাম্প-১০-এর সিআইসির সহযোগিতায় নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পে জিডি করা হয়েছে।
এদিকে পৃথক পাহাড় ধসে মহেশখালীতে মারা গেছে মোরশেদা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরী। সে ছোট মহেশখালী উত্তর সিপাহীপাড়ার আনছার হোসেনের মেয়ে। পাহাড় ধসকালে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরঘোনা গ্রামে পাহাড় ধসে রকিম আলী (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় মনিরঘোনা গ্রামের মৃত আলী আহমদের ছেলে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী জানান, রকিম আলীর পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ের ওপর বা পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসে এবং বানের পানিতে ভেসে এ পর্যন্ত আট জন নিহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে মাইকিং ও অভিযান চলছে।
৯ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
এদিকে সোমবার সকাল হতে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণ চলছে। অতিবৃষ্টির কারণে ঢল নেমেছে জেলার তিন প্রধান নদী ঈদগাঁওর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও রামুর বাঁকখালীতে। বান ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার ৯ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। শত শত বাসাবাড়িতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ডুবে গেছে রাস্তঘাট। অনেক পরিবারে রান্নাও বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ১২টা হতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার। সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বলবত্ রয়েছে। আরো দুই-তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘটতে পারে পাহাড় ও ভূমি ধসের ঘটনাও।