ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত আধা ঘণ্টার বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর কলাইকুন্ডায় দেখা হয়নি। তাই এখন সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। পশ্চিমবঙ্গে ভ্যাকসিন ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, পেগাসাস ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা উচিত। একই সঙ্গে সবার মতামত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা বলা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রথম বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এই বৈঠক ঘিরে তুমুল জল্পনা ছিল ভারতের রাজনৈতিক মহলে। বৈঠকের পর মমতা বলেন, জনসংখ্যা বেশি হওয়ার পরও অন্য রাজ্যের তুলনায় কম ভ্যাকসিন পেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গে আরো ভ্যাকসিনের প্রয়োজনের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদল নিয়েও কথা হয়েছে। বহুদিন ধরে বিষয়টি পড়ে আছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। মমতা আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আরটি পিসিআর টেস্ট করা দরকার। আমার ডাবল ডোজ নেওয়া আছে, কিন্তু করোনা টেস্ট করাব কোথায়? এখন না হলে পরে দেখা করব।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পেগাসাস ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত দাবি করেছেন। ইসরাইলের পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে ভারতে বিরোধী দলীয় রাজনীতিক, দুই জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ৪০ জন সাংবাদিকের ওপর সম্ভাব্য নজরদারির তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রযুক্তি শুধু সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাইছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধীদলগুলো। যে কারণে ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের রাজনীতিতে এখন অন্যতম প্রধান বিরোধী মুখ মমতা ব্যানার্জি। প্রায় দুই বছর পর গত সোমবার দিল্লিতে গেছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি বিরোধী ফ্রন্টকে পুনরুজ্জীবিত করা তার এবারের দিল্লি সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে গতকাল দুপুরে মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা কমলনাথ এবং কংগ্রেসের সাবেক মন্ত্রী আনন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। আজ বুধবার কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে মমতার। পাশাপাশি, এনসিপি, শিবসেনার সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে তৃণমূলনেত্রীর। আগামীকাল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।