আলী আশরাফের অবস্থার অবনতি কাজ করছে না ওষুধে

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটছে। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে শতভাগ ভেন্টেলেটরনির্ভর থাকা আলী আশরাফের অবস্থা গতকাল ভোর সাড়ে ৫টা থেকে অবনতির দিকে যায়। দায়িত্বরত চিকিত্সকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার স্বজনরা ইত্তেফাককে জানান, কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না। আলী আশরাফের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে পরিবার।

আলী আশরাফের ব্যক্তিগত সহকারী মো. জসিম উদ্দিন গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইত্তেফাককে জানান, অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টা থেকে নাক দিয়ে অবিরাম রক্ত ঝরছে। কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। রক্তচাপ কমে যাচ্ছে। অক্সিজেন সেচুরশেন নিম্নগামী। চিকিত্সকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলী আশরাফের একমাত্র ছেলে ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মুনতাকিম আশরাফ টিটু গতকাল কয়েকবার চিকিত্সকদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। মো. জসিম জানান, কখন কী ঘটে আল্লাহ্ জানেন। আলী আশরাফের নির্বাচনি এলাকার শত শত নেতাকর্মী ভিড় জমিয়েছেন হাসপাতালে।

আলী আশরাফের ছেলে টিটু জানান, তার রক্তে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে। পিত্তথলি ও ফুসফুসে যে সংক্রমণ সেটিরও তেমন উন্নতি নেই। তার শরীরের প্যারামিটারগুলোর লক্ষণ তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। স্কয়ার হাসপাতালে আলী আশরাফের চিকিত্সায় দায়িত্বরত চিকিত্সকদের পরামর্শে ভারত থেকে গত শুক্রবার রাতে যে ২১টি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন আনা হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত ১২টি প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতেও তেমন ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে বলা যাচ্ছে না। কিডনির পরিস্থিতিও ভালো না।

গত বুধবার ঈদের দিন বিকালে লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার পর থেকে আলী আশরাফ এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি। চোখও মেলেননি। তবে তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ। পিত্তথলিতে জমা পাথর অপসারণের জন্য আলী আশরাফকে গত ১০ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে কেবিন থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সংক্রমণ কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ধরা পড়ে, গত বুধবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিত্সকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন।

সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তিনি এ নিয়ে পঞ্চমবার কুমিল্লা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০০ সালে তিনি সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।