অভিনেতা ফারহান। আরজে থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছেন। সেই পরিশ্রমেই অবশেষে একদল মুগ্ধতা পুরস্কার পেলেন মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘সুইপারম্যান’ নাটকটিতে অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে। কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—
এখন তো করোনার কারণে সব কাজই বন্ধ রয়েছে। হাতে বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি। তবে আগে শুটিং করা ৩টি নাটক শিগগিরই প্রচারিত হবে।
ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকে ভিন্নরূপে ফারহানের দেখা মিলেছে। নিজেকে ভাঙার নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কী?
আমি প্রতিটি নাটকেই নিজেকে ভিন্নভাবে মেলে ধরার চেষ্টা করি। ভক্তরা প্রত্যেক শিল্পীকেই একেক রূপে দেখতে চান। সেই জায়গা থেকেই বরাবরের মতো এই ঈদের কাজগুলো করেছি। তবে এতটা সাড়া পাবো, ভাবিনি। আমার ‘সুইপারম্যান’ নাটকটি প্রচারের পর তো শুধু দেশের দর্শক না, ওপার বাংলা থেকেই দারুণ প্রশংসা পাচ্ছি।
আরজে থেকে আজকের ফারহান হয়ে ওঠার পথ কতটা মসৃণ ছিল? নতুনরা তো সুযোগ পাওয়া নিয়ে বরাবরই অভিযোগ করেন...
গায়ের রঙ কালো, পাশাপাশি মঞ্চে কাজ না করে বা অভিনয় না শিখে আরজে থেকে অভিনেতা হওয়া সত্যি অনেক কঠিন ছিল। শুরুতে তো অনেক কম বাজেটে কাজ করতে হয়েছে। নতুনদের অভিযোগও অস্বীকার করার মতো নয়। আমাকেও একই প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে শুধু সিনিয়রদের শিল্পী না ভেবে সমানভাবে নতুনদের সুযোগ দিলে আরো ভালো ভালো শিল্পী তৈরি হবে।
কাজের পরিধির সঙ্গে মানহীন কাজও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। পাশাপাশি এই ঈদেও একটি নাটক নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা চলছে। এ ধরনের কাজের জন্য কাকে দায়ী করবেন?
এ ধরনের কাজের জন্য আসলে এককভাবে কাউকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তাছাড়া ভালো কাজের মাঝে দু-একটি ভুল হতেই পারে! আমার মনে হয় এ ধরনের কাজ নিয়ে সমালোচনা না করে ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা ভালো। পাশাপাশি পরবর্তীতে আর যেন এমন ভুল না হয় সেই ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ভিউ গুণে নাটকের মান ও স্টার নির্ধারণের চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?
ভিউ কিন্তু রোবট দিয়ে হচ্ছে না, দর্শকরাই দেখছেন। ভিউয়ের কারণেই অনেক শিল্পী তৈরি হচ্ছে। আমি নিজেও ইউটিউব থেকে উঠে এসেছি। স্টার নির্ধারণের বিষয়টিতে বলবো দর্শক তো দেখছেন! আবার খারাপ কাজের ভিউ হলেও সেটার মান ভালো, তা না। কারণ দিনশেষে কিন্তু ভিউ না হলেও ভালো কাজটি নিয়ে আলোচনা হবেই।
নির্মাণ সংখ্যা বাড়লেও নাটকের জনপ্রিয়তার সংখ্যা কমছে। কেন এমন অবস্থা তৈরি হচ্ছে?
ভালো কাজ যে হচ্ছে না, তা কিন্তু না। এখনো অনেক নাটক ভালো হচ্ছে। আগে কম নাটক নির্মিত হতো এবং চ্যানেল বা দেখার মাধ্যম কম ছিল। ফলে মানুষ কাজটি মনে রাখতে পারতো। কিন্তু এখন প্রচার মাধ্যম বেশি হওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন কাজ দেখছে, একই বৃত্তে আবদ্ধ থাকছে না। তাই এমনটা মনে হচ্ছে।
একটি নাটক জনপ্রিয় হলে সেটাকে কপি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এটা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলছে?
আমি এই চর্চাকে খুবই খারাপভাবে দেখি। একজন অভিনেতা একটি চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হলে পরে একই ধরনের চরিত্রে আমি কাজ করলে কিন্তু দর্শকরা হতাশ হবে। কারণ তারা আমার কাছে নতুন কিছু প্রত্যাশা করেন।
ওটিটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন? এখানে কাজের স্বাধীনতা কতটা থাকবে বলে মনে করেন?
এই মাধ্যমটি অবশ্যই আমাদের জন্য ইতিবাচক। এরইমধ্যে ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে কিন্তু বিশ্বে আমরা সারা ফেলতে পেরেছি। আর স্বাধীনতা নিয়ে বলবো, অবশ্যই স্বাধীনভাবে এখানে কাজ করা সম্ভব। তবে কাজটি অবশ্যই ভালো হতে হবে।