বাংলার ঐতিহ্যের স্মারক। কাকডাকাভোরে গ্রামবাংলার কৃষকরা মরিচপোড়া দিয়ে পান্তাভাত খেয়ে গরু, লাঙল, জোয়াল ও মই কাঁধে নিয়ে জমি চাষের জন্য বেরুতেন। লাঙল তৈরি হতো দু’ধরনের কাঠ দিয়ে। যে কোনো শক্ত কাঠের সঙ্গে দরকার হতো তালকাঠের। লাঙলের ফলা বিঁধিয়ে কর্ষণ করা হতো মাটি। আর লাঙলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দড়িযুক্ত জোয়াল রাখা হতো দুই গরুর কাঁধে। কৃষকের এক হাতে লাঙল আর অন্য হাতে পাচন। গরু শাসনের লাঠিকে চাষিরা পাচন বলে। গরু চলতে শুরু করলেই লাঙলের ফলা বিঁধে যেত মাটিতে। জমি চাষের কাজে কিছুদিন আগেও লাঙল, জোয়াল, মই এবং হালের বলদ ব্যবহার হতো। এছাড়া ফসল মাড়াই করার জন্যও ব্যবহার করা হতো গরু। কালের বিবর্তনে এসবের ব্যবহার আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। পরিবেশবান্ধব লাঙল-জোয়ালের জায়গা দখল করে নিয়েছে যান্ত্রিক পাওয়ার টিলার আর ট্রাক্টর।
গরুর গোবর থেকে নির্ভেজাল জৈবসার পাওয়া যায়। এ সার জমির উর্বরা শক্তি ও পুষ্টিগুণ বাড়ায়। ফলে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না বলেই এ পদ্ধতি কৃষকের জন্য লাভজনক ও পরিবেশ সহায়ক। তবে গরুর লাঙলের তুলনায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে হালচাষে সময় কম লাগে। এছাড়া অতিরিক্ত জনবলেরও প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতির হালচাষে কৃষক নিজেদের অনেকটাই ঝামেলামুক্ত মনে করেন বলে এটাকে বেছে নিচ্ছেন।
নিয়ামুর রশিদ শিহাব