অনল কুমার দে, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
পদ্মা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে শাখা নদীগুলোতেও পানি বেড়ে স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার পদ্মার শাখা নদী কীর্তিনাশার তীরে শরীয়তপুর-চন্দ্রপুর-শিবচর সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে সড়কের হাজরাসার ও চরপাতানিধি এলাকা দিয়ে চার বছর আগেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত এক সপ্তাহে সড়কের কিছু অংশ ধসে যাওয়ায় পায়ে হেঁটে চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। গত শুক্রবার সড়কের ৫০ মিটার অংশ কীর্তিনাশা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলা সদর থেকে পাশের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য ২০০০ সালে শরীয়তপুর-চন্দ্রপুর-শিবচর সড়কটি পাকা করা হয়। শরীয়তপুর পৌর এলাকার পালং বাজার থেকে চন্দ্রপুর বাজার হয়ে সন্তোষপুর পযর্ন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি শিবচর-মাদারীপুর সড়কের শিলারচর এলাকায় গিয়ে মিলেছে। ঐ সড়কের সদর উপজেলার পৌর এলাকার রাজগঞ্জ বালুর মাঠ থেকে আড়িগাঁও পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা কীর্তিনাশা নদীর তীরে অবস্থিত। এ সড়ক দিয়ে সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষ জেলা সদরসহ ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর যাতায়াত করে। ঐ সড়কের হাজরাসার ও চরপাতানিধি এলাকার ৫০০ মিটার অংশ ইতিমধ্যে কীর্তিনাশা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে সড়কের ঐ অংশের ২০০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়ে। তখন সড়কটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও শরীয়তপুর পৌরসভা থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে। ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত চার বছরে সড়কের ৫০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
পাউবো সূত্র জানায়, ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ১৩ কিলোমিটার ভাঙন রোধ করার জন্য গত বছর শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৩১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঐ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। শরীয়তপুর পৌরসভার চরপাতানিধি এলাকার বাসিন্দা মোকসেদ মল্লিকের বসতবাড়ির ১৮ শতাংশ জমি। গত চার বছরে তার ১০ শতাংশ জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আট শতাংশ জমি আর বসতবাড়িটি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। মোকসেদ মল্লিক বলেন, চার বছর যাবত্ ভাঙছে, কিন্তু কেউ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেলে কোথায় আশ্রয় নেব। সদর উপজেলার ছাব্বিসরশি গ্রামের এমদাদ হোসেন বলেন, ‘চার বছর যাবত্ সড়কটি ভাঙছে। এটা রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। ঝুঁকি নিয়ে আমরা ভ্যান-রিকশায় চলাচল করতাম। গত বছরের ভাঙনে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এর পর পায়ে হেঁটে ঐ ৫০০ মিটার অতিক্রম করতাম। এখন তাও বন্ধ।’
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম আহসান হাবীব বলেন, কীর্তিনাশার যেসব স্থানে ভাঙন রয়েছে সেখানে বালুভর্তি ১ হাজার ৮০০ জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর নদীটির ১২ কিলোমিটার অংশে ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। শিগিগর তা অনুমোদনের জন্য একনেকের সভায় উপস্থাপন করা হবে।