বিপাকে কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
ক্রেতা না থাকায় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর হাটে সবজির ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ন্যায্য দামে উত্পাদিত কৃষি পণ্যের বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সরজমিনে দেখা যায়, পাইকারদের অপেক্ষায় সবজি নিয়ে হাটে বসে আছেন শত শত বিক্রেতা। কিন্তু লকডাউনের কারণে হাটে ক্রেতা নেই। মিঠাপুকুরের সবজি চাষিরা জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই হাটে আসেন। কিন্তু ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের কারণে দূর-দূরান্তের কোনো পাইকারের দেখা মিলছে না। সঙ্গে লকডাউনের অজুহাতে বেড়েছে পরিবহন খরচ। এতে সবজি চাষে বিনিয়োগ করা পুঁজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, যে কয়েক জন পাইকার আসছেন তারাও দাম হাঁকছেন উত্পাদন খরচের চেয়েও কম দাম।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে জায়গীর স্বপনের মোড় থেকে ভ্যানে করে চার বস্তায় বেগুন নিয়ে হাটে এসেছেন কৃষক আব্দুল মতিন। সকাল ১০টায় পর্যন্ত দুজন পাইকার তার বেগুন মণ প্রতি ১০০-১৩০ টাকা দাম হেঁকেছেন। তিনি বলেন, ‘বাবা কায়ো মোর বাইগোনের (বেগুনের) দাম করে না। ১০০-১৫০ টাকা মণ তো বাইগোন (বেগুন) বেচা নাগেছ। কেজিতে আড়াই থাকি পৌনে চার টাকা পড়ে। এমন বাজার থাকলে আবাদসুবাদ বাদ দেওয়া নাগবে। কষ্ট করি আবাদ করি, যদি ব্যাচপার আসি দামে না পাই, তাইলে বাঁচমো ক্যামন করি?’
সবজিখ্যাত মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর হাটে পাইকারি বাজার ঘুরে এমন আরো চিত্র দেখা গেছে। সবজিচাষি গোলাম ফারুক জানান, ঈদের আগের বাজার দরের সঙ্গে বর্তমান বাজারের কোনো মিল নেই। এখন কাঁকরোল প্রতি মণ ২০০ টাকা। ঈদের আগে যা ছিল ৬০০ টাকা। যে বরবটি এক সপ্তাহ আগে ৯০০ থেকে হাজার টাকায় মণ বিক্রি হয়েছে, এখন তা ২৫০ টাকা মণ। একই ভাবে প্রতি মণ পটোল ৭০০ টাকা থেকে কমে ৩৫০ টাকা, করোলা ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে কমে ৬০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া পটোল, ঝিঙা, ঢ্যাঁড়শ ১০ টাকা কেজি দরে, কাঁচামরিচ ৫০, পেঁয়াজ ৪০, কচুরলতি ২০, বেগুন ৩, কাঁকরোল ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর হাট কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মোকসেদুর রহমান জানান, লকডাউনের প্রভাবে কৃষকরা খেত থেকে নিয়ে আসা সবজির দাম পাচ্ছেন না। বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে মিঠাপুকুর থেকে কোনো কাঁচামাল ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা কম দামেই সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে রংপুরে ৯ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে। এ বছর সবজির ভালো ফলন হলেও লকডাউনের প্রভাবে বাজারে পাইকারদের উপস্থিতি কম থাকায় দাম কমে গেছে। আশা করি শিগিগরই এ সংকট কেটে যাবে।