করোনার সময়েও ফুলেফেঁপে উঠছে টেক জায়ান্টদের মুনাফা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার সময়েও ফুলেফেঁপে উঠছে টেক জায়ান্ট বা প্রযুক্তিনির্ভর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা। মহামারির কারণে কেনাকাটা ও অফিসের কাজসহ সার্বিকভাবে অনলাইনে মানুষের বিচরণ বেড়েছে। বিনোদনের জন্য অনলাইন নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে মুনাফাও বাড়ছে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন এ ত্রৈ-মাসিক হিসাবে আইফোন মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গ্রাহকরা আগের চেয়ে বেশি হারে ৫জি প্রযুক্তির আইফোন কিনছেন। এ ত্রৈ-মাসিক হিসাবে তাদের মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার (১৮৪৪৫০ কোটি টাকা)। আগের বছরের তুলনায় এ বছরের তিন মাসে মাইক্রোসফটের মুনাফা ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। মাইক্রোসফট এই প্রান্তিকে ১ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার (১৪০২৫০ কোটি টাকা) মুনাফা করেছে। করোনার এ সময়ে ক্লাউড সেবার চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হরে। তাছাড়া অনলাইন গেমসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফাও অনেক বেড়েছে। গ্রাহকদের চাহিদাকে সামনে রেখে মাইক্রোসফটও ক্লাউডভিত্তিক সুবিধা নিয়ে এসেছে।

এদিকে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফরম ইউটিউব জানিয়েছে তাদের এই প্রান্তিকে মুনাফা ৭০০ কোটি ডলারে (৫৯৫০০ কোটি টাকা) উন্নীত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এই মুনাফার হার প্রায় দ্বিগুণ। টেক জায়ান্ট অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও গুগলের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের রেকর্ড মুনাফা হয়েছে। করপোরেট কোম্পানির প্রভাব কমাতে মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নানা নিয়ম আরোপের পরেও কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে এবং ভিডিও প্ল্যাটফরম ইউটিউবে রিটেইল, বিনোদন ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন বেড়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের হাত ধরেই কোম্পানিটি এই সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করছেন অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই। করোনা ভাইরাস মহামারির সময় অফিসের কাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য কোম্পানিটির সফটওয়্যার ও ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিসের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মুনাফাও বেড়েছে হুহু করে। এ সময়ে টেক জায়ান্টরাও নানা সুবিধা নিয়ে গ্রাহকদের সামনে এসেছে। মাইক্রোসফট তাদের অপারেটিং সিস্টেমে ক্লাউড সেবা চালু করেছে। তাছাড়া লকডাউনে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কারণে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার বেড়েছে অনেক।