বন্ধ করে দিল প্রশাসন
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
করোনার সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসে সাপ্তাহিক হাট। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বুধবার ভোর থেকেই এই হাট বসে। হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল থেকে হাজারো মানুষের আগমন ঘটে। হাটে মানা হয়নি কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি, বেশির ভাগ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। যদিও পরে উপজেলা প্রশাসন হাট বন্ধ করে দেয়। প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি দেখে মানুষজন এদিক-সেদিক দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বুধবার দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, হাটে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। গাদাগাদি করে ক্রেতা-বিক্রেতারা অবস্থান করছে। হাট উপলক্ষ্যে ঘিওর বাজারের বেশির ভাগ দোকানের শাটার অর্ধেক খোলা ছিল। এ সময় নারী ও শিশুদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।
ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামের মো. বিরাজ বলেন, হাট করা দরকার তাই এসেছিলাম। হাট বসবে এমন খবর জেনেই তিনি হাটে এসেছেন বলে জানান।
দৌলতপুর উপজেলার মান্ধারতা গ্রামের মো. মোচন বেপারী বলেন, লকডাউন তো চলে শহরে। আমাগো গিরামে কোনো লকডাউন নাই। এ সময় তার মুখেও ছিল না মাস্ক।
হাটের কাপড় বিক্রেতা মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, ভয়ে ভয়ে দোকান খুলছি। সব দোকানই খোলা। কি করুম। কিছু বেচাকেনা না করলে খামু কি? মাছ কিনতে এসেছেন আকলিমা বেগম নামের এক নারী। কত মানুষ আইছে। বাড়ির সামনে থিকা দেইখা আমিও আইছি। আঁচলে মুখ ঢেকে বললেন, মাছ কিনা হয়ে গেলেই চইলা যামু।
ঘিওর বাজার কমিটির সভাপতি হামিদুর রহমান আলাই বলেন, আমরা বাজারের সব দোকান বন্ধ রেখেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর নজরদারি রয়েছে। তবুও যদি মানুষ আসে তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, হাট বসার খবর পাওয়া মাত্র আমি মোবাইল কোর্টের সদস্যদের নিয়ে হাটে যাই। আমাদের দেখে লোকজন এদিক-সেদিক দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাত্ক্ষণিক হাট বন্ধ করে দিয়েছি। এ সময় সাতটি মামলা ও ৩ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। লকডাউন যত দিন আছে, তত দিন হাট যেন আর না বসে, এ ব্যাপারে হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।