অবহেলার জবাব দিয়েছেন স্বর্ণ জয় করে

স্পোর্টস রিপোর্টার

টোকিও অলিম্পিকে গিয়ে স্বর্ণপদক দিবেন এমন আশা ছিল না। যেখানে বাঘা-বাঘ সব সাঁতারুদের ভিড়ে ১৭ বছর বয়সি এ সাঁতারু কীভাবে পোডিয়ামে উঠবেন তা ভাবনায় ছিল না। তাই হয়তো ফিনিশিং পয়েন্ট টাচ করেও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না লিডিয়া জ্যাকোবি। ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে স্বর্ণপদক জয় করেছেন। মার্কিন এই সাঁতারু এসেছেন আলাসকা শহর হতে। যেখান থেকে কোনো সাঁতারু উঠে আসেনি যিনি অলিম্পিক গেমসে সুইমিংপুল হতে স্বর্ণপদক এনে দিতে পারেন। আলাস্কার স্বপ্ন পূরণ করেছেন লিডিয়া জ্যাকোবি। অথচ এই লড়াইয়ে আরেক মার্কিন সাঁতারু, বিশ্বরেকর্ডধারী লিলি কিং স্বর্ণ জয়ের পথে এগিয়ে ছিলেন। জ্যাকোবি খুব দ্রুত লিলি কিংকে অতিক্রিম করে স্বর্ণ জয়ের পথে পৌঁছে যান। লিলি কিং চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু। আর টোকিও গিয়ে কম খেতাবটা হারিয়ে ফেললেন। সময় নিলেন ১ মিনিট ০৪.৯৫ সেকেন্ড।

লিডিয়া জ্যাকব মার্কিন সাঁতারুদের বাছাইয়ে অবহেলার শিকার হয়েছিলেন। তাকে দিয়ে সাঁতার হবে না। সাঁতারে তার ভবিষ্যত্ নেই। এসব কথায় হতাশ হননি জ্যাকোবি। আলাস্কা শহর হতে হাওয়াই চলে গিয়েছিলেন প্রশিক্ষণ নিতে। মনোবল শক্ত। হাল ছাড়েননি। নিজেকে প্রমাণ দিতেই আরেক শহরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিলেন। আলাস্কা ছোট শহর। সেই শহরের সিওয়ার্ডের একটি বাড়িতে জ্যাকোবির বাড়ি। যেখানে জনসংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৭৭৩ জন। এই হাতে কয়জনের মধ্যে একজন হচ্ছেন অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ী সাঁতারু। তাও আবার ১৭ বছর বয়সে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে। একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র খুশি, তার চেয়েও বেশি খুশি সিওয়ার্ডের ২ হাজার ৭৭৩ বাসিন্দা। যেন ওরা সবাই এখন স্বর্ণপদক জয়ী। যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারের যেসব মানুষ সেদিন লিডিয়া জ্যাকোবিকে বলেছিল ওকে দিয়ে হবে না। সেই কথা মিথ্যা প্রমাণ করে লিডিয়া জ্যাকোবি দেখিয়েছেন কীভাবে হতে হয়।