ছায়ানটের আয়োজনে নৃত্য উত্সব পালন

শিল্প মাধ্যমের সর্ব প্রাচীনতম শিল্প নৃত্যকলা। যার আবির্ভাব, সৃষ্টির উদ্ভবের সময় থেকে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন আঙ্গিকে, পরিবেশনের রীতিতে তা ভিন্নরূপ ধারণ করে। আধুনিক যুগে নানাবিধ নৃত্যের প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ছায়ানটের আয়োজনে ছায়ানট নৃত্য উত্সব-১৪২৫ উদযাপিত হয়। যা নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরীকে উত্সর্গ করা হয়। ভারত উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় নৃত্যধারাগুলোর অন্যতম মণিপুরী নৃত্য। গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতির প্রভাবে মণিপুরী শাস্ত্রীয় নৃত্যের উদ্ভব হয় আঠারশ শতকে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে। বাংলার কীর্তন সংগীতের প্রচ্ছন্ন প্রভাব লক্ষ করা যায় মণিপুরী নৃত্য, সংগীত ও বাদ্যে। মণিপুরী নৃত্যগুরুগণ তাঁদের সৃজনশীলতার নৈপুণ্যে শাস্ত্রীয় নৃত্যের এক অতি মাধুর্যময়, লীলায়িত নৃত্যশৈলী তৈরি করেছেন। মণিপুরী নৃত্যের বর্ণাঢ্য পোশাক এই নৃত্যকে আরও মহিমান্বিত করেছে। কমনীয় লাস্য ভঙ্গি ও দৃপ্ত তাণ্ডব ভঙ্গি মণিপুরী নৃত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মণিপুরী নৃত্যের পরিচালনা শর্মিলা বন্দোপাধ্যায়।

নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র পরিচালনায় ছিলেন তামান্না রহমান আর ও ভাবনা পরিচালনায় ছিলেন সামিনা হোসেন প্রেমা। এছাড়াও ওয়ার্দা রিহাব, মনোমি তানজানা অর্থী, সুইটি দাস একক মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন। ভরতনাট্যম শাস্ত্রীয় নৃত্যের একটি অন্যতম নৃত্যধারা। দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোরের তামিলনাড়ুতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তারও পূর্বে দেবদাসীদের উপাসনার জন্য এই নৃত্যটি পরিবেশন করা হতো। যে কারণে তখন দেবদাসী প্রথা ছিল বলে এদেরকে দেবদাসী বলা হতো। এই নাচটিকে চিন্নাইয়া, পুন্নাইয়া, ওয়াডিভেলু ও শিবানন্দ এই চারভ্রাতাদ্বয় এই নৃত্যটিকে শাস্ত্রীয় রূপ দেন। পরবর্তীতে রুক্ষিণী দেবী অরুণ্ডেল এই নৃত্যের আরও প্রচার ও প্রসার ঘটান। ছায়ানট ও জাগো আর্ট সেন্টার পরিচালনায় ছিলেন বেলায়েত হোসেন খান। সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার পরিচালনা করেন আনিসুল ইসলাম হিরু। এছাড়াও অমিত চৌধুরী, মারিয়া ফারিহ উপমা, প্রান্তিক দেব ও মিতা সেনগুপ্ত ভরতনাট্যম পরিবেশন করেন। কত্থক অত্যন্ত প্রচলিত ও জনপ্রিয় শাস্ত্রীয় নৃত্য। উত্তর ভারতে এই নৃত্যের আবির্ভাব ঘটলেও তা বর্তামনে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের অতি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন নৃত্য পদ্ধতি। লক্ষেৗ, জয়পুর ও বেনারস এই তিনটি ঘরানায় এই নৃত্য প্রচলিত। দ্রুত পদসঞ্চারণ, অতিরিক্ত চক্কর, এই নৃত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কত্থক নৃত্য সাধারণত ৩টি ভাগে বিভক্ত। বন্দনা, শুদ্ধনৃত্য ও গত্ভাও। এছাড়াও রয়েছে তারানা। পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত বিরজু মহারাজজীর সুযোগ্য শিষ্য শীবলী মোহম্মদ, শ্রী সন্দীপ মল্লিক এবং তাঁদের শিষ্য মনিরা পারভীন, কত্থক নৃত্যের অন্যতম বিষয় শুদ্ধ নৃত্য পরিবেশন করেন। ঠাট, আমদ, পেশকার, টুকরা, তোড়া, তেহাই, পরণ, চক্রগার পরণ, লাড়ী প্রভৃতি সম্বলিত উপস্থাপন ছিল তার একক উপস্থাপনার বিষয়। তিনতালে এই নৃত্যের নির্মিতি করেছেন শ্রী সন্দীপ মল্লিক এবং পরিবেশন করেন মনিরা পারভীন, প্রভাষক, নৃত্যকলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও প্রসিদ্ধ কত্থক নৃত্য শিল্পী মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় রেওয়াজ পাবয়ারমার্স স্কুল। নৃত্যে ফিফা চাকমা ও এসএম হাসান ইশতিয়াক ইমরান ও মৌমিতা রায় একক কত্থক পরিবেশন করেন।