প্রতি বছর আনুমানিক ৭ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে অভিবাসনকালে ঝুঁকির সম্মুখীন হন। চলমান মহামারির কারণে আরোপিত বিধিনিষেধ এ দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের গমনাগমনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যে কারণে এ বছর ‘বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস ২০২১’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ইউনাইটেড নেশনস নেটওয়ার্ক অন মাইগ্রেশন (বিডিইউএনএনএম), সুশীলসমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা একটি ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে আলোচনায় যোগ দেন। বাংলাদেশ ইউনাইটেড নেশনস নেটওয়ার্ক অন মাইগ্রেশনের অধীনে ‘কাউন্টার ট্রাফিকিং ইন পার্সন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ (সিটিআইপিটিডব্লিউজি)’ এই ওয়েবিনারটির আয়োজন করে।
দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ক্ষতিগ্রস্তদের কণ্ঠস্বর পথ দেখায়’ (ভিক্টিমস ভয়েজেস লিড দ্য ওয়ে), যা মানব পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসাদের ক্যাম্পেইনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এবার তাদের বক্তব্য শোনা এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবিনারে বক্তারা মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়তে সরকার, বৈশ্বিক অংশীদার, বেসরকারি খাত এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি জোরালো এবং অধিকারভিত্তিক পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানান, যাতে শোষণ প্রতিরোধ করা যায় এবং মানব পাচার সংগঠনের ক্ষেত্রসমূহ কমিয়ে আনা যায়।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘মানব পাচার একটি মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে এবং এই ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই লড়াইয়ে সব অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাইকে হাতে হাত রেখে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক নেটওয়ার্ক-বিডিইউএনএনএমের সমন্বয়ক এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, ‘মানব পাচার হলো এমন একটি অপরাধ, যা অভিবাসী শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হয়রানি, জোরপূর্বক শ্রম, অবৈধ বিবাহ, অবৈধ বাণিজ্য এবং জীবন হারানোর মতো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এটি বন্ধ করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জাতিসংঘে মানব পাচারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার সিউবহান মুলালি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিশু পাচার বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলা, অভিবাসী কর্মীদের শোষণ এবং যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।’