বটতলার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ‘খনা’

চলমান প্রথার বিরুদ্ধাচরণ তো পুরুষ শাসিত সমাজে একেবারেই রীতিসিদ্ধ নয়। কেউ কখনোই তা মেনে নিতে পারেনি; তা হোক বাবা, স্বামী, পুত্র অথবা শ্বশুর। সবাই এক কথায় পুরুষ হতে চেয়েছে। পুরুষ সর্বকালেই আধিপত্যের বিস্তার ধরে রেখেছে তার ক্ষমতা দিয়ে। নারীর জ্ঞান বিস্তৃত হবে শুধু গৃহকার্যে। বটতলা নাট্যদলের ‘খনা’ নাটকে লীলাবতীর সঙ্গে বরাহ মিহিরের এমনতর দ্বন্দ্ব ঘনীভূত হয়ে ওঠে। রাজা ধর্মকেতুর রাজ জ্যোতিষী বরাহ মিহির তার একমাত্র পুত্র মিহিরের জন্মকোষ্ঠী ভুল গণনা করে তাকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন বিদ্যাধরীর জলে। লঙ্কাদ্বীপ থেকে সেই মিহিরকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মকেতুর রাজসভায় হাজির হয় খনা। ভুল প্রমাণ করেন বরাহের গণনার। সকলের কাছে খনা প্রশংসিত হলেও বরাহের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। বরাহ নিজ পুত্র মিহিরকে নির্দেশ দেন পিতৃঋণ পরিশোধের নিমিত্তে খনার জিহ্বা কর্তনের। কী করবে মিহির? পিতৃঋণ পরিশোধ করার জন্য অবশেষে খনার জিহ্বা কেটে নেয়। আদেশের কাছে বলি হয় ভালোবাসা!

খনার বচন আসলে খনার বলে যাওয়া কথা নাকি দেউলনগরের কৃষকদের কথা। প্রথমে তো খনা সেই কথাগুলো শোনে তাদের মুখ থেকে তারপর আবার খনা মৃত্যুর আগে বলে যায়। ধন্ধ লাগে, নাট্যকার সামিনা লুত্ফা নিত্রা কি সচেতনভাবেই এমনটা করেছেন নাকি খনার ঘটনাই এমন।

গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ মঞ্চে ‘খনা’র পরিবেশনা মনোমুগ্ধকর লাগে। অবশ্য এর কারণ এরিনা ফর্মে উপস্থাপন। চারদিকে দর্শক রেখে নাট্য পরিবেশন যে অভিনয়শিল্পীরাও উপভোগ করেন, তা অভিনয় স্বাচ্ছন্দ্যেও বোঝা যায়। নাটকের যেমন গতি তেমনি গ্রাম বাংলার আবহ তৈরিতে নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার যে ছোট ছোট চিত্রকল্প সাজিয়েছেন তা সত্যিই দারুণ। বটতলার এই প্রযোজনাটি আরও ভালো হোক।