বরিশালে ওএমএসের চালের জন্য দীর্ঘ লাইন

চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্ররা বিশেষ ওএমএসের চাল ক্রয়ের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ থাকছেন। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত ওএমএসের বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ব্যতীত ভোক্তাপ্রতি ৩০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি চাল এবং ১৮ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে। ২৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

ওএমএস কার্যক্রম বরিশাল জেলায় ২৪ জন ডিলার বরিশাল নগরীসহ পৌরসভা সংবলিত উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম চালু রেখেছে। এর মধ্যে কেবল বরিশাল নগরীর বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিন তিনটি করে ট্রাকে করে চাল ও আটা বিক্রি হচ্ছে। ওএমএসের পাশাপাশি ২৫ জুলাই থেকে মাসব্যাপী শুরু হওয়া টিসিবির তেল, চিনি ও মসুর ডাল কিনতেও প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে।

বিভাগ জুড়েই চালু হওয়া বরিশাল মহানগরীতে শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন তিন জন ডিলার তিনটি ট্রাকে করে এবং অপর পাঁচ জেলায় দুই জন করে ১০ জন ডিলার টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন। চাহিদার তুলনায় স্বল্পসংখ্যক ডিলার পণ্য বিক্রি করায় প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে ক্রেতার লাইন। আবার দেরিতে কার্যক্রম শুরুর অভিযোগ রয়েছে টিসিবি ডিলারদের বিরুদ্ধে। প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাগ নিয়ে সকাল থেকেই লাইনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন ক্রেতারা।

অস্থিতিশীল বাজারে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে চালের। অনেকেরই এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে চালের দাম। ভালো খাবার তো দূরের কথা দুই বেলা দুই মুঠো ভাত খাওয়ার জন্যই মানুষ ওএমএসের বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে চাল কেনার জন্য ভিড় করছে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্ষুধার্ত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাঁচ কেজি করে চাল নিয়ে ঘরে ফিরছে। নগরীতে তিনটি ট্রাকের একেকটি ট্রাকে ২ হাজার ৫০০ কেজি চাল ও ১ হাজার ৫০০ কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে। তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। নগরীর খেটে খাওয়া মানুষ এ সুবিধা পেলেও পার্শ্ববর্তী গ্রামগঞ্জের মানুষের এ ধরনের কোনো সুবিধা নেই। তারা কিছুতেই চালের দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সংসার পরিচালনা করতে পারছে না।

ওএমএসের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের প্রধান সহকারীর দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন জানান, নগরীর তিন জন ডিলারের পাশাপাশি জেলার পৌরসভা সংবলিত ছয় উপজেলায় ২১ জন ডিলারপ্রতি ১ হাজার ৫০০ কেজি চাল ও ১ হাজার কেজি আটা ডিলার পয়েন্টে প্রতিদিন বিক্রি করছেন।

এদিকে ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টিসিবির ন্যায্যমূল্যে তেল, ডাল ও চিনি বিক্রি কার্যক্রম চলবে আগামী এক মাস। তবে বরিশালে চাহিদার তুলনায় টিসিবির পণ্য অপ্রতুল হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ক্রেতাদের। টিসিবি ১৩টি ট্রাকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় এ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রত্যেকটি ট্রাকে ডিলারদের মাধ্যমে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা দরে ৫০০ কেজি ডাল, কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা দরে ৬০০ কেজি চিনি এবং লিটারপ্রতি ১০০ টাকা দরে ৪০০ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভাগীয় শহর বরিশালের মহানগরীর জন্য শুক্রবার ব্যতীত দৈনিক তিনটি ট্রাক, অপর জেলাগুলোতে দুটি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করছে। দৈনিক এসব ট্রাকে পণ্য ২০০ থেকে ২৫০ ক্রেতার জন্য থাকলেও দৈনিক লাইনে ৭০০ থেকে ৮০০ লোক ভিড় করছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর ফলে এবং অনেকেই না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে হুড়োহুড়ি করার ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও ব্যাগ হাতে দাঁড়াচ্ছে লাইনে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে রাস্তায় বসে পড়েন বয়স্ক ব্যক্তিরা। টিসিবির ডিলাররা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করে পণ্য বিতরণের চেষ্টা করছেন তারা।

টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান শহিদুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য প্রত্যেক ডিলারকে একটি করে হ্যান্ডমাইকসহ একজন ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় পণ্য অপ্রতুল হওয়ায় মানুষের ভিড় বেড়েছে। চাহিদা অনুধাবন করে ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক আকারে টিসিবির পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।