পিরোজপুরে ভাসমান সবজি চাষিরা বিপাকে

করোনার প্রভাব

নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বিল এলাকাসহ দক্ষিণের জলাভূমির ভাসমান শাকসবজি চাষিরা ক্রেতা সংকটে বিপাকে পড়েছেন। এখন এই চাষ পদ্ধতির ভরা মৌসুম চলছে। জানা গেছে, শত শত হেক্টর জমির ধাপে বিভিন্ন শাকসবজির চারা সাজানো থাকলেও ক্রেতার অভাবে চাষিরা আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। খুচরা ও পাইকারি ক্রেতা লকডাউনের কারণে হাটবাজারে আসা-যাওয়া করতে না পারায় শাকসবজির চারা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। চাষিদের কেউ কেউ সামান্য কিছু চারা নিয়ে আশপাশে বিক্রির জন্য গেলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে আসছেন।

বৈঠাকাটা বাজারসংলগ্ন মুগারঝোর গ্রামের অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভাসমান শাকসবজি বা ধাপচাষি আকতার হোসেন জানান, জুলাই মাস হচ্ছে ধাপ চাষের ভরা মৌসুম। আগে এ মাসেই দুই দফা চারা উত্পাদন ও বিপণন সম্পন্ন হয়ে যেত। মৌসুমের তিন মাসে ছয় বার এ উত্পাদন হয়। এ বছর উত্পাদন যথাসময় শুরু হলেও তার ধারাবাহিকতা রাখা যাচ্ছে না করোনার কারণে। দুই দফায় উত্পাদিত লাউ, মরিচ, পেঁপে, টম্যাটো, বেগুন ও পুঁইচারা বাজারজাতকরণ যখন গতি পাচ্ছিল তখন লকডাউনে আটকা পড়েছে তাদের মূল জীবিকার প্রক্রিয়া। বৈঠাকাটা বাজারের ইজারাদার মো. নান্না মিয়া জানান, বিভিন্ন  বাজার বন্ধ, আগের মতো ক্রেতাদের আসতে না পারা, আর্থিক লোকসানের ধকল ইত্যাদি সমস্যা এখন ধাপ চাষের জন্য নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মুগারঝোর, চিথলিয়া, বিল ডুমরিয়া, মনোহরপুর, পদ্মডুবি, বিশারকান্দি, উমরের পাড়, মরিচবুনিয়া, পশ্চিম মলুহার, গগন ইত্যাদি বরিশাল ও পিরোজপুরের  বিভিন্ন বিল,  টুঙ্গিপাড়ার বর্নিবিল, কোটালীপাড়ার বাইগ্গার বিল, মুকসুদপুরের চান্দার বিলসহ গোপালগঞ্জের জলাভূমিতে ধাপচাষিরা এখন করোনা সংকটের কবলে।

পিরোজপুরের বিশিষ্ট কৃষি লেখক জগত্ প্রিয় দাস বিশু বলেন, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি উদ্যোগে আর্থিক কৃষি প্রণোদনা দেওয়া দরকার। আগামী মৌসুমে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক উন্নতমানের বীজ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ, পরিবেশসম্মত সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতির ব্যাপক প্রয়োগ, বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বাজারজাতকরণে সুবিধা সৃষ্টি, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান, কৃষি ও স্বাস্থ্য বিমার উদ্যোগ নেওয়া হলে ধাপচাষিরা উপকৃত হবেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলাভূমির ভাসমান চাষ পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তালিকায় তা বিশেষ কৃষি ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত বলে সরকারের উচিত এই বিশেষায়িত চাষ পদ্ধতি টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।  নাজিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দিগবিজয় হাজরা বলেন, ভাসমান শাকসবজি চাষে উপজেলায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টরের ওপর ভাসমান পদ্ধতিতে চাষিরা বর্তমানে সবজি চাষ করছে। এখন ভরা মৌসুম। লকডাউনে চ ারা ব্যবসায়ীরা বাজারে এসে সবজির চারা কিনতে পারছেন না। তাই চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পরেছেন।