মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার আকস্মিক ভাঙনে কয়েক মিনিটে পূর্ব টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল গ্রামের আট বাড়ি বিলীন হয়ে যায়। পদ্মার ভাঙনে এ জনপদের অনেক এলাকা এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এখন একের পর এক জনপদ বিলীন হওয়ার পথে। আতঙ্কগ্রস্ত গ্রামবাসী অবিলম্বে সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হচ্ছে। বর্ষায় পদ্মার রুদ্ররূপে এলাকাটিতে এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে ভয়াবহ এই ভাঙন শুরু হয়ে একের পর এক জনপদ গ্রাস করে। এরই মধ্যে নদীসংলগ্ন শত শত মিটার এলাকা ও আটটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন হুমকিতে পড়েছে শত শত পরিবারের বসতভিটা, মসজিদ, কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নানা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। এতে স্থানীয় আলম শেখের তিনটি, জিয়াসমিন বেগমের একটি, মো. খোরশেদের দুটি ও নুর মোহাম্মদ দেওয়ানের দুটি ঘর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত আলম শেখ বলেন, হঠাত্ কইরা ভাঙন শুরু হওয়ায় আমার তিনটা বসতঘর নদীতে ভেসে গেছে। দ্রুত ভাঙন রক্ষায় আমরা ব্যবস্থা চাই। নয়তো আশপাশের সব ভেঙে নিয়ে যাবে নদী। জিয়াসমিন বেগম জানান, স্বামী নেই, ঢাকায় কাজ করি। চার সন্তান নিয়ে একটা ঘরে থাকতাম। এখন যামু কই। মো. খোরশেদসহ ক্ষতিগ্রস্তরা এখন দিশাহারা। এলাকাবাসীর আক্ষেপ, এমন দুঃখের সময়ে প্রশাসনের কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভীন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার ব্যাপারে ইউএনও বলেন, প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসাইল বানারী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, এমন হঠাত্ ভাঙনে কিছু বুঝে উঠার আগেই এলাকার লোকজনের সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পরিবারগুলো এখন অসহায়। এলাকাবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত ভাঙন রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার কারণে ভাঙনকবলিত এলাকায় যাওয়া না গেলেও ভাঙনরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারেও তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি আরো বলেন, এরই মধ্যে পদ্মার তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে ৪৪৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভাঙনকবলিত বাকি অংশকেও স্থায়ী প্রকল্পের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।