সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও রাজধানীর বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়েনি। ফলে আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এছাড়া অন্যান্য মাছের দামও চড়া। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও আব্দুল্লাহপুর মাছের আড়তে খোঁজ নিয়ে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের দামের এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বাজারে ইলিশে সয়লাব হয়ে যায়। কিন্তু এবার ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, গত ২৩ জুলাই মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় অধিকাংশ জেলে সাগরে মাছ ধরতে ঝুঁকি নিচ্ছেন না। তাই রাজধানীর বাজারে ইলিশও আসছে না।
গতকাল সরেজমিনে বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ বেশ কম। যেসব ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগেরই ওজন ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে। অল্প কিছু ইলিশের ওজন ১ কেজির ওপরে। এছাড়া ৭০০ থেকে ১ কেজির নিচে ইলিশের পরিমাণ খুবই কম। আর সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা ও ১ কেজির ওপরে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
আব্দুল্লাহপুর আড়তের মাছ বিক্রেতা বেলায়েত হোসেন বলেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। তিনি বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা পুরোদমে ইলিশ ধরা শুরু না করলেও আশা করছি আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম অনেক কমে আসবে।
উল্লেখ্য, সাগরে মাছের প্রজনন ও উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরা গত ১৯ মে মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এদিকে ইলিশের পাশাপাশি বাজারে অন্যান্য মাছের দামও চড়া। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই, কাতলা ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, সামুদ্রিক টোনা ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বোয়াল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কই ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা ও শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির সরবরাহ বেড়েছে
ঈদের পরপর বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকলেও সপ্তাহ শেষে গতকাল রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। গাজর, টম্যাটো করল্লাসহ দুই-একটি সবজি বাদে অনেক সবজি ২৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ঈদের জন্য বন্ধ থাকা অনেক সবজির দোকানও খুলেছে।
গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২২ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর, টম্যাটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ঈদের পর কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বাজারে তা বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
তবে দাম কমেছে ডিমের। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালিতে ২ টাকা কমে ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লেয়ার ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।