উদ্দেশ্য সফল, দুই মাস অন্তর দিল্লি আসতে পারি :মমতা ব্যানার্জি

টানা তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা ব্যানার্জি গত সোমবার দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাত্ করেছেন কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। এই সফরে তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল— বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো নিয়ে একটি জোট গঠনের চেষ্টা করা। সেই উদ্দেশ্য অনেকটাই সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার কলকাতার উদ্দেশে দিল্লি ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, দিল্লি সফরের সব উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। দুই মাস অন্তর দিল্লি আসতে পারি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে নজরে রেখে যে বিরোধী জোট নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা চলছে, তার নেতৃত্ব-সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। বিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে বিরোধীদের এক জোট হতে হবে।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবারই মমতার দিল্লি সফর শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ফেরার আগে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিরোধী শিবিরগুলোকে একজোট করতে যদি তাকে বারবার দিল্লি আসতে হয়, তার জন্য প্রস্তুত তিনি। তবে বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ কে হবেন, সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এখনই ভাবনা-চিন্তা করতে রাজি নন তিনি। মমতা বলেন, এ মুহূর্তে দেশ বাঁচানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন যখন হবে, তখন নরেন্দ্র মোদি বনাম দেশের লড়াই হবে।

ধারণা করা হচ্ছিল, দিল্লি সফরকালে মমতা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে বিরোধী জোট নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু সফরসূচি মেনে সোনিয়া, রাহুল, কেজরিওয়ালের সঙ্গে তিনি বৈঠক করলেও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাত্ হয়নি। এ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় রাজনীতিতে। এ ব্যাপারে মমতা জানান, শরদ পাওয়ারের সঙ্গে আমার দেখা না হলেও ফোনে কথা হয়েছে। করোনার কারণে এখন অনেকের সঙ্গে দেখা হয়নি, আগামীতে হবে।

বিরোধী জোট প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী বলেন, সংসদের অধিবেশনের পর আলোচনা হবে। একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটা কমন প্ল্যাটফরম থাকা দরকার। সব বিরোধী দলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, তেল-গ্যাসের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। দেশ জুড়ে বেকারত্বও বাড়ছে। দেশের উন্নয়ন চাই, মানুষের উন্নয়ন চাই।