ঔষধি

আমরুল

 

শাক হিসেবে পরিচিত। সরু লতানো এই উদ্ভিদ রাস্তার আশেপাশে, ঝোপে-ঝাড়ে, বাড়ির আনাচে-কানাচে দেখা যায়। সারা বছরই কম-বেশি জন্মে, তবে বর্ষাকালে হালকা ভেজা মাটিতে জন্মায় বেশি। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। তবে বেদ ও চরক সংহিতা থেকে জানা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তারের ইতিহাস হাজার বছরেরও আগের। আমাদের দেশে সর্বত্র আমরুল পাওয়া যায়। অম্লিকা, আংবতী, আমরুক, আমরু, আমরুল, আমরুল শাক, আমবলি, অম্বলী শাক, আম্বিলী শাক, ক্ষুদ্রাম্লী, চতুশ্ছদা, চাঙ্গেরী, আম্ররোলিকা, চুকাত্রিপাতি, চুকা শাক, চুক্রা, চুত্রিকা, চৌপতিয়া, চ্যাংদোলা প্রভৃতি নামে পরিচিত।

আমরুল শাকের একসঙ্গে তিনটি পাতা জোড় বেঁধে থাকে। পাতার প্রতিটি অংশ হূদপিণ্ডাকৃতির। কাণ্ড ও পাতা সবুজ। কাণ্ড এক থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা হয়। পাতা ও কাণ্ড নরম ও রসালো প্রকৃতির। সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফুল ফোটে। ডাঁটার গোড়া থেকে গজানো লম্বা দণ্ডের মাথায় ছোট ছোট হলুদ রঙের ফুল ফোটে। ফুলের পাঁপড়ি পাঁচটি। ফল যবের মতো। প্রতিটি ফলে ছোট ছোট অনেক বীজ থাকে, যা বংশবিস্তারে সহায়তা করে।

আমরুলের রয়েছে নানা ঔষধিগুণ। জ্বর, সর্দি, কাশি, আমাশয়, অম্লপিত্ত, পেট পরিষ্কার, মুখের রুচি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী। এর পাতায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি, ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম।

সুশান্ত কুমার রায়