মাবরুর রশীদ বান্নাহ। মেধাবী এই নির্মাতা ধীরে ধীরে নিজের কাজের একটা সিগনেচার তৈরি করে ফেলেছেন। দর্শক চোখ ও তাদের ইমোশনকে চালিত করার কাজটিও দারুণ করেন তিনি। এবারের ঈদের বেশ কয়েকটি নাটক নির্মাণ করলেও প্রত্যেকটিই ভিন্নধারার নির্মাণ। কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে ভাঙার তাগিদ তার বরাবরই। কথা বলেছেন বর্তমান নাটক ও এর নানা প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
কোনো কাজই ১০০% মৌলিক হয় বলে আমার মনে হয় না। আমি শুধু চেষ্টা করতে পারি মৌলিক গল্পে কাজ করার। অনুপ্রাণিত হওয়া খারাপ নয়, তবে কোন কাজটি থেকে অনুপ্রাণিত সেই কথাটি উল্লেখ করলে আরো ভালো হয়।
ঈদে আপনার বেশ কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। প্রত্যাশার জায়গায় কতটা সফল হয়েছেন?
আমি যেমন আশা করেছিলাম তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সাড়া পেয়েছি। ‘মায়ের ডাক’, ‘সুইপারম্যান’, ‘দ্য টিচার’ নাটকগুলোতে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি এবং এগুলো নিয়ে ইতিবাচক অনেক আলোচনাও চলছে। আমি খুব আনন্দিত দর্শকদের এমন ভালোবাসা পেয়ে।
এবারের ঈদের নাটকগুলোতে কোন পরিবর্তনগুলো আপনার চোখে পড়েছে, যা ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিশেষ?
এবারের ঈদের নাটকগুলো কিন্তু বেশিরভাগই অন্যান্য ঈদের চেয়ে আলাদা হয়েছে। অনেক এক্সপেরিমেন্টাল কাজ এবার এসেছে এবং দর্শকনন্দিত হয়েছে সেগুলো। এছাড়া চরিত্র সংকটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নটি করার মতো জায়গা কিন্তু নির্মাতা এবার রাখেননি।
ঈদের নাটকগুলো প্রশংসিত হলেও কিছু কাজ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
দেখুন, ভালো-খারাপ নিয়েই আমাদের জীবন। কিন্তু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো কখনো জীবনে নেগেটিভ বিষয় এলে সেটাকে সততার সঙ্গে কতটা পজিটিভ করতে পারলাম। আমার মনে হয়, একটা ভুলকে প্রধান্য না দিয়ে ভালো কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত। না হলে ইন্ডাস্ট্রি বা ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একটি নাটক জনপ্রিয় হলে সেটাকে কপি করার প্রবণতা বরাবরই দেখা যায়। এই বিষয়টিতে কী মন্তব্য করবেন?
একটি কাজ ভালো হলে সেটাকে কপি করার প্রবণতা সারা পৃথিবীতেই রয়েছে। কোনো কাজই ১০০% মৌলিক হয় বলে আমার মনে হয় না। আমি শুধু চেষ্টা করতে পারি মৌলিক গল্পে কাজ করার। অনুপ্রাণিত হওয়া খারাপ নয়, তবে কোন কাজটি থেকে অনুপ্রাণিত সেই কথাটি উল্লেখ করলে ভালো হয়।
এখনকার নাটকগুলো বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গায় কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে করছেন?
প্রতিটি নাটকেই কিন্তু কোনো না কোনো সামাজিক বার্তা থাকে। আমার নাটকগুলো যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয় বলবে, প্রতিটি নাটকেই সামাজিক একটা বার্তা থাকে। কিন্তু এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করলে অনেক সময় সমালোচনা করা হয়। তখন নির্মাতারা ঝুঁকি না নিয়ে প্রেমের গল্পেই কাজ করতে চান। তবে দর্শকরা চাইলেই সবকিছুর পরিবর্তন করতে পারেন।
ভিউ চর্চার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আমি সবসময় গল্প অনুযায়ী চরিত্র নির্বাচন করি। ভিউ গুণে চরিত্র নির্বাচন করলে তো গল্প যাকে চায় তাকে দিয়ে কাজটি করা হলো না। তাই যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে তো আমি বলবো এই চর্চা না করাই ভালো।
ওটিটি মাধ্যমটিতে নির্মাতারা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করেন?
এই মাধ্যটি সবে আমাদের দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এখনো সেভাবে গোছানো হয়নি। তবে এরইমধ্যে বেশকিছু কাজ মাধ্যটিতে প্রশংসিত হয়েছে। যা খুবই ইতিবাচক সবার জন্য। যদি ওটিটি সিন্ডিকেটের মাঝে না পড়ে তবে খুবই সম্ভাবনার একটি মাধ্যম হবে এটি।
কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আপনার মতামত জানতে চাই—
মানের বিষয়ে আমি কাউকেও দোষ দিতে চাই না। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে আরো বেশি স্বশিক্ষিত মানুষ আসুক, এটা চাই। এমন মানুষ যত আসবে তত এই প্রশ্ন থেকে দূরে সরে যাবো আমরা। ইন্ডাস্ট্রিও আরো ভালো অবস্থানে যাবে।