লোহাগড়ায় বরাদ্দ কম
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
লোহাগড়ায় করোনাকালে ওএমএসের চাল ও আটা ক্রয় করতে সকাল থেকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাল-আটা না পেয়ে মলিন মুখে খালি হাতে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। চাল-আটা বিক্রিকালে প্রচুর ভিড় থাকলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনে কর্মহীন সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য সরকার লোহাগড়ায় পৌর এলাকায় গত ২৫ জুলাই থেকে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম চালু করেছে। শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পৌরসভার তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রে খোলাবাজারে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় লোহাগড়া বাজারের ডিলার প্রবীর কুমার কুন্ডু ও লক্ষ্মীপাশা বাজারের মুঞ্জুর শেখের দোকানে সকাল ৭টা থেকেই অনেকে লাইনে চাল-আটা নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। তবে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ৯টা থেকে বিক্রি শুরু হলেও লাইনে থাকা সবাই পাওয়ার আগেই দুই ঘণ্টার মধ্যে বরাদ্দকৃত চাল-আটা শেষ হয়ে যায়। ফলে এই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই চাল-আটা না পেয়ে খালি হাতে মলিন মুখে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। পৌর এলাকার গোপিনাথপুর গ্রামের বাবু শেখ, মর্জিনা বেগম, লোহাগড়ার সরদার পাড়ার বাসন্তি রায়, মহানন্দ পাল, লক্ষ্মীপাশা গ্রামের সন্তোষসহ অনেকে জানান, আমরা পরপর দুই দিন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল-আটা পাইনি। আমাদের মতো অনেকেই না পেয়ে মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ওএমএস ডিলার প্রবীর কুমার কুন্ডু মদন জানান, সকাল থেকেই বিক্রয় কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে। চাল-আটা বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিনের নির্ধারিত বরাদ্দ দুই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বলা হলেও কেউ কেউ মানছে না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মান্নান আলী বলেন, পৌরসভার তিনটি পয়েন্টে ওএমএস কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিক্রয় কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন একজন ৩০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি চাল এবং ১৮ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ কেজি চাল এবং ১ হাজার কেজি আটা নির্ধারিত বিক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করবেন। অসহায় কর্মহীন লোকের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় অনেকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ডিলার এবং বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।