মো. আবদুল হালিম, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
কাঠালিয়ায় বিষখালী নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদ, অফিসপাড়া, লঞ্চঘাট, আউরা হাট, কচুয়া খেয়াঘাট, আমুয়া বন্দর, চিংড়াখালী বাজার ও আওরাবুনিয়া বাজারের বহু স্থাপনা ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে শত শত একর কৃষি জমি। সরজমিনে দেখা গেছে, স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের কোলঘেঁষা লঞ্চঘাট থেকে বড় কাঠালিয়া পর্যন্ত নদী তীরের তীব্র ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে উপজেলা পরিষদ ও অফিসপাড়া। এছাড়া কাঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঠালিয়া পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও বহু স্থাপনাও হুমকিতে রয়েছে। বিলীন হচ্ছে শত শত একর কৃষিজমি। উপজেলার চিংড়াখালী গ্রামের জেলে ফারুক বলেন, প্রতি বছর গলা সমান পানিতে আমাদের ঘর, গরু-বাছুর সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
জেলা পরিষদ সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসেন অপু সিকদার বলেন, আমুয়া থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না হওয়ায় আমরা বন্যার সময় খুবই অসহায় অবস্থার সম্মুখীন হই। ঘরবাড়ি ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাঁধ না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে বিষখালী নদীর পানি উপজেলায় প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত তলিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষখালী নদীর তীরে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার আসলেই ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ছোট ছোট ভাঙন মেরামত করেছি। তবে শিগিগরই বেড়িবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চলছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছর আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে সরাসরি গিয়ে চিঠি দিয়ে এসেছি। তিনি চিঠিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পাঠিয়েছেন। শিগিগরই বেড়িবাঁধের সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, কাঠালিয়া, রাজাপুরসহ ঝালকাঠিতে যত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ আছে এবং যদি নতুন কোনো বাঁধ দরকার হয় সরজমিনে তার সার্ভে চলছে। সার্ভে শেষ হলে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছি। যেহেতু মেরামত সম্ভব হয় না সব সময়। মেরামত হয় ১০০ মিটার ২০০ মিটার, তাই বড় পরিসরে ঝালকাঠি জেলায় যত বাঁধ আছে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এবং যদি নতুন প্রয়োজন হয় সব ধরনের বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের জন্য শিগিগরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।