বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত চলমান কঠোর লকডাউনে বিপাকে পড়েছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষেরা। চরাঞ্চল বেষ্টিত উপজেলায় বসবাসরত চার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে দেড় লাখ মানুষ যমুনার চরে বাস করে। যাদের অধিকাংশ জীবিকা নির্বাহ করে জমি চাষাবাদ ও তাঁতশিল্পের কাজ করে। সম্প্রতি যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাদি জমিগুলো ডুবে গেছে আর তাঁত শিল্পকারখানার কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে এসব এলাকার মানুষ কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বেলকুচি সদর ইউনিয়নের সোহরাব উদ্দিন জানান, আমরা চরের মানুষ। দিন পার করি আবাদ বসত করে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জমি ও ফসল ডুবে গেছে। এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে লকডাউন। প্রশাসনের লোকজনের জন্য নদী পার হতে পারি না। কোনো কাজও নাই। তাই খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। আমার মতো খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে চরের প্রতিটি মানুষকে। এ পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণসহায়তা পাইনি। এমন অবস্থায় আমাদের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা সোলাইমান হোসেন বলেন, চরের মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে আবাদ বসত আর তাঁতের কাজ করে। তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আর নদীতে পানি বাড়ায় ফসলি জমি ডুবে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। এদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসহায়তা দরকার।
বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুল জানান, কঠোর লকডাউন চলাকালে সরকারিভাবে আমরা প্রায় ৭০০ মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। সামনের দিনগুলো সরকারি সহায়তা পেলে এ উপজেলার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, কয়েক দিন আগে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে করোনায় কর্মহীন মানুষের জন্য যা পেয়েছি তা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেউ যদি ৩৩৩ তে কল দিয়ে খাদ্যসামগ্রীর জন্য আবেদন করে তাহলে ঐ ব্যক্তির খাদ্যসামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।