পরিবারের পর আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষ হচ্ছে বন্ধু। যার কাছে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, যে মনের সব না বলা কথাগুলো বুঝতে পারে, যে সর্বদা পাশে থাকে, যে কখনো ভুল বুঝে না, ছেড়ে চলে যায় না। সুসময়ের হোক, আর দুঃসময়ের; বন্ধুত্বের রয়েছে বিভিন্ন ধরন। তবে প্রকৃত বন্ধু অপর বন্ধুর দুঃখে সমব্যথী হয়, সুখকে সমানভাবে ভাগ করে নেয়। বন্ধুত্ব কোনো সূত্রের মাপকাঠিতে মাপা যায় না। যে কথাগুলো গুরুজন বা পিতা-মাতাকে বলা যায় না; সে কথাগুলো আমরা প্রাণ খুলে বন্ধুর কাছে প্রকাশ করতে পারি।
পথচলার সঙ্গী হিসেবে কমবেশি প্রত্যেকেই এক জন বন্ধুকে পেতে চায়। বন্ধুত্বের বন্ধনে কোনো স্বার্থ থাকে না। বন্ধুত্ব যতই পুরোনো হয়, ততই দৃঢ় হয়। জীবনের প্রয়োজনেই মানুষ বন্ধু খুঁজে নেয়। তবে একথাও ঠিক, সব বন্ধুর গুরুত্ব সমান হয় না। সত্যিকারের বন্ধুত্ব নিয়ে নানান মত থাকলেও একটি ব্যাপারে সবাই একমত, বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্ভব। এমন একজন বন্ধু, যার সঙ্গে মন খুলে প্রতিটি কথা বলা যায়! কিন্তু সব সময় তা হয়েও ওঠে না। আসলে সবারই আলাদা একটি বন্ধুমহল রয়েছে। এমনকি আপনার পথচলার সঙ্গী যা করতে পারেন না, সেটিও হয়তো পারেন আপনার কোনো প্রিয় বন্ধু। কিন্তু সবাই বন্ধুত্বর প্রকৃত অর্থ বুঝে না। আর বন্ধুত্বের মর্যাদাও দিতে পারে না সবাই। কিছু মানুষ আছে যারা বন্ধুত্বের নামে আমাদের সঙ্গে ছলনা করে। আমাদের আবেগ, অনুভূতি নিয়ে খেলা করে। তারা নিজেদের সব সময় আমাদের বন্ধু বলে পরিচয় দেয় ঠিকই, কিন্তু কখনোই আমাদের পাশে থাকে না। তারা শুধু সময় কাটানোর জন্য আমাদের কাছে আসে। তারা আমাদের থেকে যত সম্ভব শুধু নিয়েই যায়, বিনিময়ে আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে না। এসব বন্ধু নামের সাপ থেকে শত্রুও অনেক ভালো। তারা সামনে থেকে সব সময় আমাদের ক্ষতি করে, নিন্দা করে কিন্তু বন্ধু নামের শত্রুগুলো পাশে থাকার নাটক করে আমাদের ক্ষতি করে যায় প্রতিনিয়ত। মানুষ প্রকাশ্য শত্রুর মোকাবিলা করতে পারে খুব সহজেই কিন্তু অপ্রকাশ্য শত্রুর মোকাবিলা করতে পারে না, কারণ এরা সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমাদের ঠকায়। বন্ধুত্ব খুব পবিত্র একটা সম্পর্ক। এমন কাউকে সেই স্থান দেওয়া উচিত নয় যে বন্ধুত্বের মর্যাদা দেওয়া তো দূরে থাক বন্ধুত্বের মানেই জানে না। কিন্তু মানুষের মন বোঝা খুবই মুশকিল। কারো চোখ দেখে তার মনের খবর বোঝা যায় না। তাই মানুষ প্রতিনিয়ত ধোঁকা খায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের পরিসর বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে দায়িত্বও। তাছাড়া বন্ধু বন্ধুই হয়। প্রযুক্তির যুগে ছোট ছোট বন্ধুবৃত্ত গড়ে উঠলেও শেষ বয়সে সেই বন্ধুর সঙ্গে কথা বলাতেই মেলে শান্তি। জীবনের প্রয়োজনেই মানুষ বন্ধু খুঁজে নেয়। বন্ধু ছোট্ট একটি শব্দ হলেও এর বিস্তৃতি কিন্তু কোনো সীমারেখার মধ্যে বেঁধে দেওয়া যাবে না। বন্ধুত্বের পরিধি আকাশের মতো সীমাহীন, সাগরের মতো বিশাল। বন্ধুদের সঙ্গে কেবল আনন্দই ভাগ করে নেওয়া মূল কথা নয়, বিপদে তার পাশে দাঁড়ানো, যথাসাধ্য সাহায্য করাও বন্ধুত্বের দাবি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা