জান-ই-আলম
এমনিতেই করোনাকালের আন্তর্জাতিক সিরিজগুলো নানা শঙ্কায় জর্জরিত। জৈব সুরক্ষা বলয়, কোয়ারেন্টাইন নীতি, অতিথিদের কঠোর বিধিনিষেধসহ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজটাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল গুমোট একটা পরিবেশ। গতকাল সেসবকে হটিয়ে সিরিজের আবহে ঠাঁই করে নিল ব্যাট-বলের লড়াই। হোটেল রুমের আবদ্ধ পরিবেশ ছেড়ে গতকাল অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দল। তাতেই যেন পাঁচ ম্যাচের সিরিজেও প্রাণের জোয়ার ধরা দিল।
মিরপুর স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় অনুশীলন করে বাংলাদেশ। অনুশীলনের শুরুতে দেখা যায়নি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সাংবাদিকদের মধ্যে সেই আলোচনা সরব হওয়ার আগেই বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি থামার পর ইনডোরে অনুশীলন করেন টাইগাররা। পরে জানা গেছে, করোনা নেগেটিভ হলেও শরীরে কিছুটা তাপমাত্রা থাকায় অনুশীলনে নামেননি মোসাদ্দেক। তবে শেষ দিকে মাঠে সতীর্থদের পাশেই দেখা গেছে তাকে।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের শক্তিমত্তার ব্যবধান অনেক। টি-২০ তে দুই দলের আগের চার ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার খেলা ঘরের মাঠে। তাই দৃশ্যপটে কিছুটা বদল আনার আশায় রয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার জন্য খেলবে না বাংলাদেশ, সিরিজে বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে ডমিঙ্গোর শিষ্যদের।
গতকাল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের হেড কোচ বলেছেন, ‘আমরা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে চাই না। ভালো একটা সিরিজ নিশ্চিত করতে চাই।’
আমরা জানি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। আমরা এখন তাদের বিরুদ্ধে খেলব। এটা বড় চ্যালেঞ্জ এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে হবে এবং সিরিজ জিততে হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী আমরা তা করতে পারব। মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক থাকলে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারের দিকে নিয়ে যেতে পারব।’
বাংলাদেশ দলে স্বীকৃত ওপেনার শুধু সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা ইনজুরিতে পড়লে সাকিব ও মিঠুনকে বিকল্প হিসেবে ভেবে রেখেছেন ডমিঙ্গো। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা এটা নিয়ে অনেক ভেবেছি। সাকিব আছে, সে ওপেনিংয়ে উঠে আসতে পারে। মোহাম্মদ মিঠুন দলে ফিরে এসেছে। যদিও সে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, এই সংস্করণে প্রয়োজনে সে ওপেন করতে পারে, যদি কোনো ওপেনার চোট পায়। আশা করি, ওপেনারদের কিছু হবে না। তবে কিছু হয়ে গেলে, বিকল্প আছে আমাদের।’
স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণটা দুর্দান্ত। তাদেরকে খেলা কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য। ডমিঙ্গো বলছেন, বোলার নয় বল দেখে খেলতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড মানসম্পন্ন বোলার এবং আমরা তাদের কিছু ফুটেজ দেখেছি। দিনশেষে আমরা বল দেখে খেলব, বোলার নয়। শেষ পর্যন্ত, তারা তো মানুষই এবং কিছু বাজে বল তারাও করবে।’
তবে অস্ট্রেলিয়াকে স্পিন দিয়ে আটকানোর চিন্তা নাকি করছে না বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ ভাবনায় ভালো উইকেটে খেলতে চান ডমিঙ্গো। গতকাল তিনি বলেন, ‘ভালো উইকেটে খেলতে হবে আমাদের। কারণ দেশের বাইরে বিশ্বকাপ আমাদের সামনে। এই সিরিজে তাই উইকেটকে খুব বড় ব্যাপার মনে করি না আমি। আমার মনে হয় না, এখানে বল অনেক স্পিন করবে।’ এছাড়া বাংলাদেশ দলে বড় ইনজুরির খবর নেই। গতকাল বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। কোচের আশা, সৌম্যও ম্যাচের আগে ফিট হয়ে যাবেন।