বর্ষা ও জোয়ারে ভেসে গেছে মাছ
খুলনা অফিস
গত এক সপ্তাহের অবিরাম বৃষ্টিপাতে খুলনা অঞ্চলের ৭ হাজার ৬৬৪ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি ডুবে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে, খুলনা আবহাওয়া অফিস নিম্নচাপের কারণে গত এক সপ্তাহে খুলনা অঞ্চলে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে খুলনায় ১ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা ডুবে গেছে। এর মধ্যে কয়রায় ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমি রয়েছে। কয়রার স্লুইস গেটের কপাট খুলে যাওয়ায় পানি আটকানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে কয়রার বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দাকোপের ৭০০ হেক্টর জমির বীজতলা ডুবে গেছে।
এদিকে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া, টিপনা রুদাঘরা খলশী, চুকনগর, মাগুরাঘোনা, গোলনা মাদারতলা, চ্যাংমারী, শাহপুর, সাহস, রাজাপুর, সরাফপুর, শোভনা মাগুরখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। আমন ধানের চারা ও শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। বর্ষা ও জোয়ারের পানিতে ঘের তলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। কৃষক ও মাছচাষিদের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। করোনার কারণে এবার বীজ ও পোনা অধিক দামে কিনে চাষাবাদ করেছিলেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণে পাঁচ হেক্টর আমন বীজতলা, সাত হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামীতে সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করে সহায়তা দেওয়া হবে।
সিনিয়র উপজেলা মত্স্য অফিসার মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, অতিবর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ডুমুরিয়া উপজেলার ১ হাজার ৯০৮ হেক্টর আয়তনের ২ হাজার ৬৫০টি ঘের ও ১৯.৫ হেক্টর আয়তনের ২৩০টি পুকুরের গলদা-বাগদা রেণু ও সাদা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। পুকুর ও ঘেরের অবকাঠামো ক্ষতি ১০ লক্ষাধিক টাকাসহ মত্স্য খাতে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করা হবে। এছাড়া যে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, সেই সব এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার ১ হাজার ৭০০ হেক্টর আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন জমি ও ৫০০ হেক্টর সবজি ডুবে গেছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাগেরহাটে ১ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমির আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ জেলায় ৫ হাজার ৬৪২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছিল। রোপা আমনের ১৫ হেক্টর জমি ডুবে গেছে।