২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয়। ঐতিহাসিক এই দিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়। এতে বাংলাদেশি ভূখণ্ডে যোগ হয় ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমি। ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি ঘটে লাখো মানুষের। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল গারাতি (বর্তমানে রাজমহল) মফিজার রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে শনিবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে ছিটমহল বিনিময়ের ছয় বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বক্তারা দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠানের আয়োজক পঞ্চগড়-নীলফামারী জেলা বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা শাহনেওয়াজ প্রধান শুভ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাফিজাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মুসা কালিমুল্লাহ প্রধান। এর আগে কলেজের শহিদ মিনারে ছয়টি মশাল ও ৬৮টি মোববাতি প্রজ্বালন করা হয়। এই কমিটি গত ছয় বছর ধরে বর্ণাঢ্য উত্সবের আয়োজন করে দিবসটি পালন করে আসছে। তবে এবার করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি ও সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে উত্সবটি আয়োজন করা হয়।
ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান বলেন, ‘৬৮ বছরের বন্দিজীবন থেকে মুক্ত করে নতুন করে বাঁচার সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা আধুনিক এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মূল ভূখণ্ডের মানুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, তাদের জন্য তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পঞ্চগড়ের ৩৬টি ছিটমহলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের ৬৮ বছরের বন্দিজীবনের অবসান ঘটার সঙ্গে সঙ্গে এখন তাদের ঘরে জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি। পেয়েছে স্মার্ট কার্ড। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা। ভাঙা রাস্তাগুলো এখন পাকা সড়ক। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে গৃহহীনদের দেওয়া হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘর। সব মিলে পালটে গেছে জেলার ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলের দৃশ্যপট।