চট্টগ্রামে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমী নামে এক নারীর পরিবর্তে মিনু নামে এক নারীর কারাভোগের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার মূল অপরাধী কুলসুমা গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন আহমেদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পারভীন নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে গলা টিপে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৭ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন কুলসুমা। সাজা এড়ানোর জন্য তিনি মর্জিনা বেগম নামে এক নারীর শরণাপন্ন হন। মর্জিনার মাধ্যমে কথিত ছিন্নমূল নেতা মো. শাহাদাত হোসেন ও নূর আলম কাওয়ালের সঙ্গে কুলসুমার পরিচয় হয়। এরপর মর্জিনার মধ্যস্থতায় শাহাদাত ও নূর আলমের সঙ্গে দেড় লাখ টাকার চুক্তি করেন কুলসুমা। চুক্তি অনুযায়ী মিনু আক্তার নামে এক হতদরিদ্র নারীকে নগদ টাকা ও এক মাসের মধ্যে জামিন করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুলসুমা সাজিয়ে কারাগারে যেতে রাজি করান শাহাদাত ও নূর আলম।
তবে মিনু কারাগারে ঢোকার পর চুক্তি অনুযায়ী শাহাদাত ও নূর আলমকে দেড় লাখ টাকা দেননি কুলসুমা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছিন্নমূল এলাকায় কুলসুমা ও মর্জিনা বেগমের দুটি প্লট জোর করে দখল করেন শাহাদাত ও নূর আলম। এ ঘটনার পর কুলসুমা ও মর্জিনা নগরীর ইপিজেড এলাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। গত বৃহস্পতিবার ইপিজেড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মো. জুবায়ের মৃধা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে আসামিরা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল সলিমপুর কালাপানিয়া দরবেশনগর এলাকা থেকে শাহাদাত ও মো. নুর আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তারা জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১২ জুন মিনুকে কুলসুমা সাজিয়ে শাহাদাত ও মর্জিনা বেগমের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে ‘কুলসুমা’ নামটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে মিনু হাজতে ঢুকে যান।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৯ মে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন রহমতগঞ্জ ৮১ নম্বর গলির একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস কর্মী পারভিনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পারভিন আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করে গার্মেন্টস কর্মী কুলসুমা। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হলেও মামলার তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়।
মিনুকে কুলসুমা সাজিয়ে হাজতবাসের বিষয়টি পরে আদালতের নজরে আনেন গোলাম মাওলা মুরাদ নামে এক আইনজীবী। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালতের আদেশে গত ১৬ জুন মিনু আক্তার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। পরে আদালত কুলসুমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। উল্লেখ্য, মিনু জামিনে মুক্ত হওয়ার ১২ দিন পর ২৯ জুন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বায়েজিদ-সীতাকুণ্ড লিংক রোডের আরেফিননগর এলাকায় রহস্যজনকভাবে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এ ঘটনায়ও বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা হয়েছে।