পদ্ম ফুলে ভরে গেছে সিংদই বিল

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা সদরের সিংদই বিলে ফুটেছে হাজারো পদ্ম ফুল। বিলভর্তি পদ্ম ফুল দেখতে ভোর ও বিকালে সেখানে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। করোনা ভাইরাসে ঘরবন্দি থাকা পরিবারের লোকজন এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে এই পদ্মবিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে বা বিলের পানিতে নৌকাভ্রমণে চোখের সামনে হাজারো পদ্ম ফুল দেখে ভারাক্রান্ত মনটাকে হালকা করে ঘরে ফিরছে। শহরের ইটাখোলা সিংদই এলাকায় এই বিলের অবস্থান।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে ও শুক্রবার ভোরে সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে পদ্ম ফুল। আলো পড়ে যেন ঝলমল করছে। এবার এমন এক সময়ে ফুল ফুটেছে, যখন করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষ চারদেয়ালে বন্দি। ডিঙ্গি নৌকায় ভেসে জলের ছন্দতালে পদ্ম ফুল স্পর্শ করার টানে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছে প্রকৃতিপ্রেমীরা। সেখানে এসে সেলফি বা ছবি তোলায় যেন রিতিমতো প্রতিযোগিতা। আগাছা আর লতায় ভরা বিলের পানিতে হাজার হাজার গোলাপি পদ্ম। পদ্মপাতার ফাঁকে সূর্যের সোনালি আভা পানিতে প্রতিফলিত হয়ে সৌন্দর্য বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। ডিঙ্গি নৌকায় বিলে ঢুকলে মনে হবে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে পদ্মরা। নৌকায় করে পদ্মবিল ঘুরতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। যাতায়াতব্যবস্থাও ভালো। জেলা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে এই সিংদই বিল স্থানীয়দের কাছে পদ্মবিল নামে পরিচিতি পেয়েছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৌসুমি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান সংশ্লিষ্টদের। পাশাপাশি পদ্মবিলকে সংরক্ষণ এবং আরো চিত্তাকর্ষক করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বিলের মধ্যে কয়েকটি মাছের ঘেরে এই পদ্ম ফুল ফুটত। ঘের পরিষ্কার করে ফুলগুলো পানিতে ফেলে দেন তারা। ঘের থেকে অবমুক্ত হয়ে এ বছরই এত বিস্তৃত এলাকায় পদ্ম ফুল ফুটেছে। তারপর চলতি বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় সিংদই বিল জুড়ে পদ্মের এই বিপুল সমাহার হয়েছে। জানা যায়, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের সিংদই বিল পদ্মবিলে পরিণত হয়। সেই বিলে আগত দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বসার আসন এবং বিলে মাঝে নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌকা ও মাঝি। পদ্ম ফুলের কাছে যাওয়ামাত্রই মাঝিরা দর্শনার্থীদের ফুল না ছেঁড়ার জন্য অনুরোধ করেন। পদ্মবিলের সার্বিক দায়িত্বে থাকা তানজিম ওয়াসতি টিটু বলেন, ‘পদ্ম ফুল রক্ষার জন্য আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’ সিংদই বিল এলাকাটি হলো জেলা শহরের সঙ্গে লাগানো ইটাখোলা ইউনিয়নে। এখানকার ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রশিদ মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের জন্য এই পদ্ম ফুল আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। করোনাকালীন ঘরবন্দি মানুষ এখানে ভোরে ও বিকালে ঘুরতে আসছে। আমরা চাইব এই পদ্মবিল যেন নষ্ট না হয় সেই ব্যবস্থা করতে।’  নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সিংদই পদ্মবিলটি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।