ঢাকায় ফিরে কর্মস্থলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ

অনেক ঝক্কিঝামেলা পেরিয়ে ঢাকায় আসার পর এবার কর্মস্থলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। সড়কে গণপরিবহন না থাকায় রিকশায়, ভ্যানে, হেঁটে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে তাদের। এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের এই লকডাউনে ঢিলেঢালা লক্ষ করা গেছে। কমেছে চেকপোস্টও। গতকাল সোমবার ব্যক্তিগত ও নানা কারণে ঘর থেকে বের হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অনেক এলাকায় যানজটও দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাফিক পুলিশকে গলদ্ঘর্ম হতে হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গতকাল দেখে, ঢাকার সড়কে মানুষ এবং যানবাহনের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় বেশি ছিল। তবে কিছু কিছু স্থানে যারাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তারাই পড়েছেন পুলিশের জেরার মুখে। যারা বিনা প্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদের ট্রাফিক আইনে জরিমানা ও মামলা দেওয়া হয়েছে। চেকপোস্টগুলোতে আগে যেভাবে শক্তভাবে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি ও ঐ পথে যাতায়াতকারীদের বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন তা গতকাল করতে দেখা যায়নি। অনেক চেকপোস্টে পুুলিশ বসে সড়কের চিত্র দেখে সময় কাটিয়েছেন। ঢাকার বড় তিন টার্মিনাল মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বাইরে থেকে আসা কোনো যানবাহনকে ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি বসায় পুলিশ। এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, বিধি লঙ্ঘন করে বাসার বাইরে আসায় ৩৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৩৫ জনকে ১  লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছে। আর সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে বিনা কারণে গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হওয়ার কারণে ৩৬৬টি গাড়িকে ৮ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অতিমারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন দিয়েছে সরকার। লকডাউন বাড়বে কি বাড়বে না তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ফার্মগেট, শাহবাগ, মত্স্য ভবন, কাকরাইল এলাকায় ঘুরে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। গার্মেন্টস খোলার পর থেকে মানুষের চলাচল বেড়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত। সড়ক ছিল রিকশার দখলে।

গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রফিকুল নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি পল্টনে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।  লালবাগ যাবেন বলে অফিস থেকে বের হয়ে গন্তব্যস্থানে হেঁটে যাচ্ছেন। ফার্মগেটে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ রেজাউল করীম জানান, লকডাউনে কোনো গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রত্যেক গাড়িকে তারা কেন বের হয়েছেন তা জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। যারা বিনা কারণে বের হয়েছেন তাদের নামে ট্রাফিক আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।