সপ্তাহব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু

সংক্রমণ-মৃত্যু বাড়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ দায়ী নয়

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দায়ী নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, যেটা আমরা হাসপাতালে দিচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব টিকা দেয়া, আমরা টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এলে আমাদের দায়িত্ব তাকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটাও বলি হাসপাতালে কতগুলো বেড আছে, কতগুলো খালি আছে, কতটুকু ভর্তি আছে। তা নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের মাধ্যমে জানানো হয়।

গতকাল সোমবার বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় তা সবাই জানে। আপনারা ফেরিতে দেখেন কীভাবে লোক আসে, দোকানপাটে কীভাবে লোকে চলাফেরা করে, মাস্ক পরে না এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে না, যার ফলে সংক্রমণটা বাড়ে। কিন্তু ওখানে তো আমাদের কেউ নেই। ডাক্তার-নার্সরা তো আর ফেরি কন্ট্রোল করে না, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি কন্ট্রোল করে না। সেটা কন্ট্রোল করার দায়িত্ব অন্য বিভাগের রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছি এবং যতটুকু সম্ভব পালন করে যাব। যেখানে পালিত হচ্ছে না সে বিষয়ে আপনারা (গণমাধ্যম) তাদেরকে প্রশ্ন করুন।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবার মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন শুরু হয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত এই সপ্তাহটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় :‘মাতৃদুগ্ধ দান সুরক্ষায়: সকলের সম্মিলিত দায়’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত্। যে জাতি শিশুদের কথা ভাবে না, সে জাতি খুব বেশি উন্নত হতে পারে না। আর দেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে উন্নত অবস্থানে দেখতে হলে আমাদের আজকের এবং অনাগত শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নাই।’ বিভিন্ন জরিপের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ পান করালে মৃত্যু হার শতকরা ৩১ ভাগ কমে যায়। আর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান করালে (এক ফোটা পানিও নয়) শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি আরো ১৩ ভাগ কমে যায়। তাই শিশুর মৃত্যুহার রোধে এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ পান, পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান এবং পূর্ণ ছয় মাস বয়সের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত ঘরে তৈরি বাড়তি খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ চালিয়ে যেতে হবে।’ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, পরিবারপরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু প্রমুখ বক্তব্য দেন।