অকাতর। অসংকুচিত। অব্যাহত। অপ্রতিহত। নিঃশঙ্ক
অকুণ্ঠ শব্দটি বেশ মজার। পদ হিসেবে বিশেষণ পদ। এক সময় এটি বিশেষ এক ধরনের বিশেষ্য পদের গুণ বর্ণনা করত। এখন গুণ বর্ণনা করে অন্য ধরনের বিশেষ্য পদের।
গিন্নি অকুণ্ঠ বটিতে মাছ কুটছেন। সন্ত্রাসী অকুণ্ঠ ছোরা হাতে তেড়ে আসছে। নাপিত অকুণ্ঠ ক্ষুরে দাড়ি কামিয়ে চলেছে। অকুণ্ঠ শব্দের এই রকম ব্যবহারযুক্ত বাক্য এখন লেখা হলে মানুষ তা কিছুতেই ভালো মনে নেবে না। মানুষ ভাববে এই সব বাক্য এখন যে লেখে, সে যেমন মূর্খ তেমনি উন্মাদও। অথচ ঐ তিনটি বাক্যে অকুণ্ঠ যে অর্থে বিশেষণ, অকুণ্ঠ শব্দের মূল অর্থ সেটাই।
অকুণ্ঠ শব্দটি সংস্কৃত ভাষার। সংস্কৃত ভাষায় অকুণ্ঠ শব্দের অর্থ হলো তীক্ষ, ধারালো—অর্থাত্ যা ভোঁতা নয় বা মরচেপড়া নয়। অন্যদিকে, বাংলা ভাষায় অকুণ্ঠ শব্দের অর্থ হলো অকাতর, অসংকুচিত, অব্যাহত, অপ্রতিহত, নির্ভীক, নিঃশঙ্ক ইত্যাদি।
সংস্কৃত অকুণ্ঠ বসে অস্ত্রপাতির আগে আর বাংলা অকুণ্ঠ বসে প্রেম, প্রীতি, স্নেহ, ভালোবাসা, সমর্থন ইত্যাদির আগে। এই সব শব্দের আগে ভোঁতা বা মরচেপড়া অস্ত্রের কোনো বিশেষণ চলে না। বাঙালি সেটা ঠিকমতো জেনেছে বলেই অকুণ্ঠ বিশেষণকে জুতসইভাবে পালটে দিয়েছে।
সূত্র : বাংলা শব্দের উত্স অভিধান/ফরহাদ খান