‘যে যেটা পারেন, তার সেটাই করা উচিত’

পুরো নাম মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। কিন্তু এফ এম দুনিয়ায় আরজে রাসেল নামেই প্রখ্যাত। একটি এফএম স্টেশনে ভুত এফএম শোতে তার উপস্থিতি, ভরাট কণ্ঠের উপস্থাপনা শ্রোতাদের মনে এক দারুণ ইলিউশন তৈরি করে। বর্তমানে ভুত ডটকম নামের একটি শো করছেন। যা এরই ভেতরে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কথা বললেন সমসাময়িক প্রসঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

 

রেডিও ছেড়ে অ্যাপ নির্ভর প্রোগ্রাম করছেন। এই প্রোগ্রামটি নিয়ে জানতে চাই—

এ ধরনের প্রোগ্রাম বাংলাদেশের এই প্রথম। ২০২০ সালে ১৪ এপ্রিল থেকে অ্যাপ ভিত্তিক এই প্রোগামটি যাত্রা শুরু করেছে। সরাসরি প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের সময়ই ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ দেখছেন। এই অনুষ্ঠানটি মূলত মানুষের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে করা হয়। কখনো তারা স্টুডিওতে এসে তাদের গল্প বলেন, আবার কখনো তাদের গল্পটি পড়ে বা রেকর্ড করে আমরা সম্প্রচার করে থাকি।

দর্শক রুচির পরিবর্তনে কন্টেন্ট এখন দেখা মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। সেই জায়গায় এই অনুষ্ঠানটি এমন জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

আমাদের অনুষ্ঠানটি অন্যান্য অনুষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ধরুন, অনুষ্ঠানটি ভুতের। যদি সেটা আমরা ভিজ্যুয়ালি তৈরি করি তাহলে অনেক সময় গল্পের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল মেলে না। ফলে দর্শকরা একটা জায়গায় ধাক্কা খায়। কিন্তু আমরা অডিও আকারে প্রচারের ফলে তারা কল্পনা করার সুযোগ পায়। চোখ বুজে গল্পের সেই প্রেক্ষাপটকে নিজের মাঝে ধারণ করতে পারে।

আপনি প্রথম ভুত নিয়ে শো শুরু করেন। এরপর অনেকেই সেটাকে কপি করে অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। এই চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?

দেশের কোনো রেডিও আমার অনুষ্ঠানের মতো কোনো অনুষ্ঠান করছে না। তবে কপি করাকে আমি খারাপভাবে দেখি না। কারণ একটি অনুষ্ঠান ভালো হলে সেটা থেকে অনুপ্রাণিত হতেই পারেন। তবে আইডিয়া চুরি করলে সেটা খারাপ। এছাড়া আমি মনে করি, ইত্যাদি আপনি কপি করতে পারেন, কিন্তু হানিফ সংকেতকে কপি করতে পারবেন না।

রেডিও ফুর্তি ছাড়ার কারণ কী ব্যক্তি রাসেলকে প্রতিষ্ঠিত করা ছিল?

বক্তি রাসেলকে প্রতিষ্ঠা না, আসলে যখন আমার প্রোগ্রামটি বন্ধ হয়ে গেল তখন এই অনুষ্ঠানটি শুরু করি হটাত্ করেই। রেডিওর অনুষ্ঠানের মতো অনেকেই এটার প্রতিষ্ঠা বা জনপ্রিয়তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমরা সার্থক বলা চলে।

রেডিওতে জনপ্রিয়তা পাওয়া পর অনেকেই অভিনয়ে নাম লেখান। কিন্তু আপনি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ কী?

আমি মনে করি যে যেটা পারেন তার সেটাই করা উচিত। সাকিব আল হাসান অভিনয় করলে কিন্তু তাকে ক্রিকেটার সাকিবই বলবেন। তার অভিনয়ও ফ্লপ হতে পারে। সেই জায়গা থেকে বলবো আমার অভিনয়ের প্রস্তুতি নেই।

রেডিওর কন্টেন্টগুলো এখন ফেসবুক ও ইউটিউব কন্টেন্টে পরিণত হচ্ছে। এতে রেডিওর স্বকীয়তা নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন না?

রেডিও ইন্ডাস্ট্রি আসলে এখন তেমনভাবে নেই। তাছাড়া এখন সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে গেছে। যখন দর্শক ডিজিটাল মাধ্যমে পরিবর্তন হয়েছে। সেখানে রেডিওগুলোকেও ডিজিটাল মাধ্যমে চলে আসতে হবে। তাদের পরিচিতি কাজে লাগাতে পারলে ভালো অবস্থান তৈরি সম্ভব।

এখন তো সবাই নিজেস্ব কন্টেন্ট নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাহলে কী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত সৃজনশীল মানুষগুলো আমরা হারাতে চলেছি?

হ্যাঁ, আপনার এই কথাটির সঙ্গে আমি একমত। একটা কাজ ভালোবেসে সততার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে করলে যে কারো অবস্থান তৈরি হবে। তবে এতে অবশ্যই আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত মানুষগুলোকে হারাবো। কারণ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয় শিখিয়ে একজনকে তৈরি করে। কিন্তু নিজে নিজে তো সেটা সম্ভব নয়।