কেন বৈদ্যার গাঁওয়ের ভাঙন?

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বৈদ্যার গাঁও মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদীর পাশে অবস্থিত। ফুলদী নদী থেকে বের হওয়া খাল বৈদ্যার গাঁওয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। গ্রামটি নদী থেকে বেশ দূরে হলেও বর্ষায় খাল আর নদী পানিতে একাকার হয়ে যায়। গত সপ্তাহে যেভাবে ভাঙন দেখা দেয়, সেটা খুবই আকস্মিক এবং আশঙ্কাজনক। কয়েক দিনে খালে পানির স্রোত এত বেড়েছে যে স্রোতের সঙ্গে বাতাসের আঘাতে গ্রামের প্রায় ২০/৩০ ফুট বাড়ি ভেঙেছে। খালপাড়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের অংশেও কিছুটা ভাঙন ধরেছে। স্রোতের আঘাতে নিচের মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে, যে কোনো সময় বিরাট আকারের মাটির চাকা ভেঙে পড়তে পারে। এভাবে ভাঙতে থাকলে রসুলপুর-আনারপুরা রাস্তার বৈদ্যারগাঁওয়ের অংশও বিলীন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে গজারিয়া উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে দেখেছে, দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি।

ফুলদী নদীর মুখ খাল দখল করে স্থাপনা তৈরির কারণে সরু হয়ে আসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কথা হচ্ছে। মূলত ফুলদী নদীর মুখ সরু হয়ে যাওয়ায় পুরো নদী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া একটি কোম্পানি কর্তৃক দুটি খাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ছাড়াও ফুলদী নদী থেকে বের হওয়া খাল, নালার অধিকাংশই আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়েছে। বর্ষাকালে মেঘনার প্রচণ্ড পানি প্রবাহে ফুলদী নদী প্রভাবিত হয়। নদী তখন সেই অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত পানির চাপ পড়ে বর্তমানে কোনো রকম টিকে থাকা খালগুলোর ওপর। মূলত এই কারণেই বৈদ্যার গাঁওয়ে অস্বাভাবিক এই ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে ধারণা।

পরিশেষে, ফুলদী নদীর উত্পত্তি স্থান দৌলতপুর থেকে শুরু করে হোসেন্দি পর্যন্ত নদীর নাব্য ঠিক করা উচিত; নদী থেকে বের হওয়া সমস্ত খাল, নালা উদ্ধার এবং পুনঃখনন জরুরি।

মুহাম্মদ মাসুম খান

বৈদ্যার গাঁও, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ