শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা থেকে কেন্দুয়া উপজেলার দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। কিন্তু নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কটির বর্তমান অবস্থা খারাপ হওয়ায় ৪০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। সড়কটি খারাপ থাকায় অনেকে আবার মদন উপজেলা হয়ে দ্বিগুণ পথ ঘুরে নেত্রকোনা-কেন্দুয়া যাতায়াত করছেন। জানা গেছে, নেত্রকোনা শহরের বনোয়াপাড়া মোড় থেকে কেন্দুয়া পৌরসভা কাযালয় পর্যন্ত সড়কটি তিন বছর ধরে বেহাল হয়ে পড়ে আছে। এক-দুই ফুট পরপর সড়ক জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির অবস্থা এতই বেহাল যে, প্রায় আড়াই বছর ধরে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলার বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, কেন্দুয়া সড়কের অবস্থা খারাপের জন্য আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাসের চাকা গর্তে ফেঁসে যায়। সড়কের প্রস্থ ১২ ফুট হওয়ায় দুটি বাস একসঙ্গে অতিক্রম করতে সময় বেশি লাগে, দুর্ঘটনা ঘটে। তাই বাস বন্ধ করে রাখা হয়। তিনি আরো জানান, আগে ঐ পথ দিয়ে যাত্রীর অভাব ছিল না। আধাঘণ্টা পরপর ১৫-২০টি বাস প্রতিদিন চলাচল করত। এখন বাসগুলো রাস্তায় পড়ে বিকল হয়ে রয়েছে। চালক, হেল্পার অনেকেই বেকার, অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছে।
গত রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বনোয়াপাড়া পার হতেই শুরু হয় সড়কের বিধ্বস্ত অংশ। কিছু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন যাত্রী নিয়ে হেলেদুলে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও গর্তে পড়ে আটকে পড়ছে যানবাহন। সড়কের মদনপুর, রেন্টিতলা বাজার, রামপুর, উলুয়াটি মোড় এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি তাতে জমা হয়ে দুর্ভোগ আরো বাড়ছে।
মদনপুর বাজার এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, এই সড়কে বাস চলে না। মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ঝুঁকি নিয়ে কিছু সিএনজি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল যাত্রী বহন করে। এতে ভাড়া দিতে হয় অনেক বেশি। রামপুর এলাকায় সিএনজিচালক সবুজ মিয়া বলেন, ‘সহজে এই রাস্তা দিয়ে আসি না। আসলেও ৪৫ মিনিটে সিএনজি চালিয়ে নেত্রকোনা-কেন্দুয়া যাওয়া যেত। এখন ৪৫ মিনিটের পথ তিন-চার ঘণ্টা লাগে।’
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি প্যাকেজের কাজ চলছে। অন্য দুইটির ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। একদিকে করোনা, অন্যদিকে বর্ষা চলমান থাকায় ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছে না। তবে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ ঠিক করে রাখা হচ্ছে আপাতত। ঠিকাদার মালামাল আনতে শুরু করেছে। কাজের জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।