রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি
কোরবানি ঈদে অবিক্রীত গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পাবনার কয়েক হাজার পশু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। চাহিদার তুলনায় জোগান বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ গরুই অবিক্রীত রয়ে গেছে। এছাড়াও ফিরতি পথে দ্বিগুণ পরিবহন ভাড়া দিয়ে আবার বাড়িতে আনতে হয়েছে এসব পশুগুলো। ফলে অনেকেই দেনাদারদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা জানান, হাট থেকে ফেরত আনা পশু এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাবনার সুজানগর উপজেলার চৈত্রহাটি গ্রামের খামারি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে ৩২টি গরু নিয়ে ঢাকার উত্তরার গরুর হাটে যান। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় পাঁচটি গুরু বিক্রি করা যায়নি। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় সাইজের এই পাঁচটি গরু পালন করতে প্রতি মাসে লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। প্রায় দুই বছর ধরে এই পাঁচটি গরু পালনে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আশা ছিল, ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে এই গরুগুলো। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে এসেছি।
একই গ্রামের খামারি শুকুর আলি জানান, ১৩টি গরু নিয়ে ঢাকার কয়েকটি হাট ঘুরে মাত্র দুটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ১১টি গরু ফিরিয়ে এনেছি। পাবনা সদরের চর তারাপুর গ্রামের পশু ব্যবসায়ী মোকাদ্দেস প্রামাণিক বলেন, এবারে ঈদে ২২টি গরু ঢাকায় নিয়েছিলাম। ছয়টি গরু কম দামে বিক্রি করে ১৬টিই ফেরত আনতে হয়েছে। দেনা করে পশু কিনে এখন চরম বিপদের মধ্যে পড়েছি। গৃহস্থরা টাকার জন্য ফোন দিচ্ছে। আমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।
পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার আওতাপাড়া এলাকার পশু ব্যবসায়ী কালাম শেখ বলেন, ৪৫টি পশু নিয়ে ৩১টিই ফেরত আনতে হয়েছে। বেড়া উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের হায়দার আলী জানান, ঢাকার গাবতলী পশুরহাটে ৭০টি গরু তুলেছিলেন। অবিক্রীত ৩৫টি গরু ফেরত নিয়ে এসেছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসাইন বলেন, এবার কোরবানির হাটে চাহিদার চাইতে কোরবানির পশুর সরবরাহ বেশি ছিল। যার কারণে ব্যবসায়ীরা চড়া দাম পাননি। তবে বড় গরুর চাইতে এবার মাঝারি ধরনের গরুর চাহিদা বেশি ছিল। অনলাইনে পশু বিক্রি হয়েছে অনেক। তবে লকডাউন আর করোনার জন্য হাটে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে এই পশু ঈদ-পরবর্তীতে মাংসের চাহিদা পূরণ করবে। আর ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা তালিকা তৈরি করছি। সরকারিভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করলে অবশ্যই তাদের দেওয়া হবে।