শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা
শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামে অসময়ে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সারোয়ার জাহান সাগর নামে এক উদ্যোক্তা। করোনাকালে ঘরে বসে না থেকে তিনি বাড়ির পাশের পতিত দুই বিঘা জমিতে চাষ করেন গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ। প্রতিদিন এ তরমুজ একনজর দেখতে আসেন স্থানীয় উপজেলাবাসী। অনেকেই এসে জমি থেকে টাটকা তরমুজ কিনেও নিয়ে নেন। সরজমিনে দেখা যায়, আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন তরমুজ। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য বেড তৈরি করে মাটিকে এক ধরনের বিশেষ প্লাস্টিকের কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দূরত্বে কাগজ ফুটো করে চারা লাগানো হয়। দেখা যায় জমির এক পাশ থেকে অন্য পাশ সারি সারি মাচা। লম্বা মাচায় ঝুলছে হাজারো তরমুজ। জালি ব্যাগের মধ্যে ভরে সেই তরমুজ বেঁধে রেখেছেন মাচার সঙ্গে।
সারোয়ার জাহান সাগর জানান, ‘করোনাকালে ইউটিউব দেখে বিদেশি গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষে উদ্যোগী হই। প্রথমে অনলাইনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার এক জনের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা রোপণ করি। রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত তরমুজের উত্পাদন করে সফল হয়েছি। দুই বিঘা জমিতে ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তরমুজ বিক্রয়ের উপযুক্ত হলেও ক্রেতা তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। লকাডাউন যদি চলতে থাকে তাহলে আসল টাকা না ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছি। এ তরমুজ চাষে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে এক দিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে সারা বছর এ সুস্বাদু এ ফল খেতে পারবে মানুষ।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মূয়ীদ উল হাসান বলেন, ‘শ্রীপুর উপজেলার মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে সব ধরনের ফসলের ফলন ভালো হয়। এ এলাকায় গত বছরও গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের ফলন ভালো হয়েছিল। এ জাতের তরমুজ সারা বছরই চাষ করা যায়। আমরা উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের পাশে আছি।’