প্রণোদনার অর্থ ব্যবহারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন :সিপিডি

সরকারঘোষিত প্রণোদনার অর্থ ব্যবহারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ জন্য কেন্দ ীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নজরদারি বাড়াতে হবে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, প্রণোদনার ঋণ পরে ফিরে আসবে কি না সে বিষয়ে আমরা চিন্তিত। কারণ আগেও দেখা গেছে ইচ্ছাকৃতভাবে অনেকেই খেলাপি হয়েছেন। এজন্য ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের জন্য আরো কঠোর হতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার ‘সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি কি অর্থনীতির বর্তমান চাহিদা মেটাতে পারবে? সিপিডির তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এতে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তব্য দেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। উত্পাদনশীল খাতে অর্থ না গিয়ে শেয়ারবাজারে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। যদি উত্পাদনশীল খাতে এই অর্থ ব্যয় করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনবে না। সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে তার ৮০ শতাংশই ব্যাংকের ঋণ নির্ভর। কিন্তু অনেক ব্যাংকের এই ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তারা নিজেরাই সমস্যায় জর্জরিত। ঋণ খেলাপি এবং দুর্বলভাবে পরিচালিত ব্যাংকগুলোকে কোভিড সম্পর্কিত সহায়তা প্যাকেজের সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।

সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা অর্জনে এই মুদ্রানীতি খুব সহায়ক হবে না। এই করোনার সময়ে ব্যক্তি খাতে এত ঋণ দেওয়া কঠিন। এতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হবে না। প্রণোদনা সহায়তা প্যাকেজ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।                সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,  শেয়ারবাজারে ইদানিং সন্দেহজনক বিনিয়োগ বাড়ছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোথাও ‘ফাউল প্লে’ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রবাসিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স অধিক তারল্য সৃষ্টি করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিভিন্ন পরিবারের আয় কমেছে, তাদের সহায়তায় বিদেশ থেকে  রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসছে। ২ শতাংশ প্রণোদনাও কাজ করছে।  তার মতে রেমিট্যান্সের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত। ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত কোনো ডকুমেন্টেশন ছাড়া রেমিট্যান্স প্রেরণের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার হচ্ছে কি না সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত বলে সিপিডি মনে করে। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা পুনর্বিবেচনা করাও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

মুদ্রানীতি বিশ্লেষণে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতির হিসাবে ত্রুটি রয়েছে। ২০০৫ সালের কাঠামোতে অর্থাত্ ১৬ বছর আগের কাঠামোতে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হচ্ছে। আপডেটেড কনজাম্পশন বাস্কেটের উপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা উচিত।