স্পোর্টস রিপোর্টার
মিচেল স্টার্কের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান নাঈম শেখ। আক্রমণের ভাষায় যেন অস্ট্রেলিয়াকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ। কিন্তু ইনিংসের বয়স যত বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের রান তোলার সংগ্রাম ততই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের বোলিংয়ের সঙ্গে মিরপুর স্টেডিয়ামের উইকেটের ভূমিকাও এখানে কম নয়।
গতকাল সিরিজের প্রথম টি-২০ তে চিরাচরিত উইকেটই দেখা গেছে মিরপুরে। উইকেটের ধরন বুঝে তৃতীয় ওভারেই লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে বোলিংয়ে আনে অস্ট্রেলিয়া। বলের গতি কমিয়ে সফরকারীরাও চাপ বাড়ান। সেই চাপেই পাওয়ার প্লেতে ২২টি ডট বল খেলেছে বাংলাদেশ। ইনিংস শেষে ডট বলের সংখ্যা ৪৭। গতকাল কার্যত ৭৩ বলে রান পেয়েছে টাইগাররা। ৭ উইকেটে ১৩১ রানের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।
উইকেটের আচরণ বিচারে স্কোরটা খুব বড় নয়। আবার খুব কমও নয়। বরং চ্যালেঞ্জিং একটা স্কোরই পেয়েছিল বাংলাদেশ। লড়াইয়ের পুঁজি এসেছিল দুটি ৩০ ছাড়ানো ও ২০ ছাড়ানো ইনিংসের কল্যাণে।
টসে হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের একাদশে মাত্র দুই পেসার। দুই বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলামের ওপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। বাঁহাতি স্পিনার দুজন, স্বীকৃত অফস্পিনার একজন। সব মিলিয়ে স্লো, লো উইকেটের ভাবনা একাদশেই স্পষ্ট ছিল। মোহাম্মদ মিঠুন, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ একাদশে সুযোগ পাননি।
ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারে হ্যাজেলউডের লেগ স্ট্যাম্পের বল ব্যাটে নিয়ে স্টাম্প ভাঙলেন সৌম্য (২)। জাম্পার নিরীহ বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে নাঈম শেখ বোল্ড হন। ২৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের জুটি আভাস দিয়েছিল বড় কিছুর। যদিও রান তুলতে তারাও সংগ্রাম করেছেন। তাদের ৩৬ রানের জুটি ভেঙেছে মাহমুদউল্লাহ হ্যাজেলউডের স্লোয়ার তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলে। তিনি ২০ রান করেন।
উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান (৩)। একপ্রান্ত আগলে সাকিব খেলে গেছেন। ইনিংসের ১৭তম ওভারে হ্যাজেলউডের তৃতীয় শিকার হন তিনি। ৩৩ বলে ৩৬ রানের মহামূল্য ইনিংস খেলেন সাকিব। তারপরও শেষ দিকে আফিফের ব্যাটে ১০০ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হওয়ার আগে আফিফ ১৭ বলে ২৩ রান করেন। শামীম ৪, মেহেদী হাসান অপরাজিত ৭ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়ার হ্যাজেলউড ২৪ রানে ৩টি, স্টার্ক ৩৩ রানে ২টি, জাম্পা, টাই ১টি করে উইকেট নেন।