জান-ই-আলম
করোনাকালে জৈব সুরক্ষা বলয়ের অধীনে দেশ ও দেশের বাইরে কয়েকটি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোম সিরিজটা নতুন অভিজ্ঞতা নিয়েই হাজির হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ক্রিকেট কুলীন অস্ট্রেলিয়ানদের একগাদা শর্ত মেনে নিয়ে তাদের আতিথ্য দিচ্ছে বিসিবি। মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয়ের সঙ্গে সফরকারীদের শর্তগুলো আলোড়ন তুলছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও।
করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর প্রাদুর্ভাবের কারণে অস্ট্রেলিয়ানদের আরোপিত কঠোর নিয়মনীতি দেখে দেশ জুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ম মানায় অনভ্যস্ত বাংলাদেশের মানুষ নেতিবাচক মন্তব্যের জোয়ারে গা ভাসাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন—বাড়াবাড়ি করছে অতিথিরা। তবে সিরিজের আয়োজক বিসিবি অবশ্য বিষয়গুলো এমনভাবে দেখছে না। সিরিজে দুই দলের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিধি প্রণয়ন, সুরক্ষা বলয়ের কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল একান্ত আলাপে বলেছেন, এসব বাড়াবাড়ি নয়। লক্ষ্য যদি হয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তবে বাড়াবাড়ি করতেই হবে। সুরক্ষার জন্য এমন সচেতনতা, সেখানে বিন্দুমাত্র ছাড়ও দেওয়ার সুযোগ নেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কড়াকড়িকে সন্তানের প্রতি যত্নবান বাবার আচরণই দেখছেন এ চিকিত্সক।
সিরিজের পুরো ব্যবস্থাপনার প্রধান দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘আপনি যদি সবাইকে সুরক্ষিত রাখতে চান, আপনাকে বাড়াবাড়ি করতে হবে। দরকার হলে আরো করতে হবে। ছাড় দিলে কাউকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন না। এটা আপনি বাড়াবাড়ি বলতে পারেন, এটা যার যার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। যদি আপনার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে ওদেরকে সুরক্ষিত রাখা। সুরক্ষিত করতে চাইলে গড্ডালিক প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলে হবে না। তাই এখানে বাড়াবাড়ি বলে কিছু নাই।’
বাংলাদেশের মানুষের নিয়ম মানার ক্ষেত্রে অনীহা নতুন নয়। অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনায় যার প্রভাব স্পষ্ট। দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা নিজের ভালোও বুঝি না, পরের ভালোও বুঝি না। এমন যদি হতো যে, আমি সুরক্ষা নীতিমালা না মানলে শুধু আমার ক্ষতি হবে, তাহলে এরকম। ব্যাপারটা এমন নয় আসলে। আপনার ক্ষতি হওয়া মানে কিন্তু আরেক জনের ক্ষতি হওয়া। মানে আপনি কিন্তু জিনিসটাকে ছড়িয়ে দিতে পারেন। বাইরের দেশগুলোতে এটা বুঝে যে, অন্যের ক্ষতি করার অধিকার আমার নেই। আমার মনে হয় এ চিন্তার অভাব আছে।’
ক্রিকেটারদের প্রতি সিএ-এর যত্নশীল আচরণের প্রতিফলন দেখছেন বিসিবির এ চিকিত্সক। তিনি বলেছেন, ‘একটা বাবা যেমন সন্তানের জন্য কেয়ার করে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড ওদের জন্য ওই রকম কেয়ার করছে। এবং নিশ্চিত করছে যে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা যেন কোনো বিপদে না পড়ে। ওদের একজন যদি আক্রান্ত হয়, ওদের জবাবদিহি করতে হবে সরকারের কাছে, জাতির কাছে।’
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর মিলে শুধু তিনটি ফ্লাইটে প্রায় ২৪ কোটি টাকা খরচ করছে অস্ট্রেলিয়া। শুধু ঢাকা থেকে ফিরে যাওয়াতেই ৮ কোটি টাকা খরচ হবে। যা সিরিজ আয়োজনে স্বাগতিক বিসিবির মোট খরচের কাছাকাছি। সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে একজন ভাইরোলজিস্টও দলের সঙ্গে এনেছে অস্ট্রেলিয়া।
দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘এমনকি ওদের দলের মধ্যে এক জন ভাইরোলজিস্টও আছে। ওরা নিয়ে আসছে। এখন বাড়াবাড়ি বলবেন, নাকি সচেতন বলবেন।’
এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগোচ্ছে সিরিজের আয়োজন। কারণ অতিথিরা কোনো অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার
যত শর্ত
১. সিরিজ-সংশ্লিষ্ট সবাইকে ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে
২. টিম হোটেলে বাইরের অতিথি থাকবে না
৩. বিমানবন্দরে বিশেষ ইমিগ্রেশন সুবিধা দিতে হবে
৪. নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করতে হবে
৫. মাঠের ভেতর ব্রডকাস্টার, ফটোসাংবাদিক থাকবে না
৬. স্টেডিয়ামের মূল গেট ব্যবহার করবে না অন্য কেউ
৭. গ্রাউন্ডসম্যান মাঠে থাকবেন না
৮. ম্যাচ চলাকালে কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না
৯. ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক হবে না
১০.গ্যালারিতে বল গেলে, নতুন বল দিতে হবে