অবশেষে গাবতলী বাস টার্মিনালের বাগানের শতাধিক বৃক্ষ নিধন স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পূর্ব নির্দেশিত বাগানের স্থানে টয়লেট নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ।
গত ৩১ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে ‘সবুজ বাগান ধ্বংস করে হবে টয়লেট ও কাউন্টার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে গত রবিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ ঘটনাস্থল সরেজমিন করে এর সত্যতা পায়। এরপর বাগানের বৃক্ষ নিধন করে টয়লেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়।
প্রকাশিত সংবাদের বলা হয়, প্রায় ৩শ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৫ ফুট প্রস্থের বাগানটিতে আমড়া, তেঁতুল, আম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নিম, মেহগনি, বাগান বিলাস, জামসহ নানা প্রজাতির প্রায় একশ গাছ রয়েছে। কোনো কোনো গাছের বয়স ১৪ বছরেরও বেশি। ক্লান্ত যাত্রীরা তপ্ত রোদ থেকে রক্ষা পেতে বাগানের গাছগুলোর ছায়ায় আশ্রয় নেন। চলতি বছর গাবতলী বাস টার্মিনাল শামীম খানের মালিকানাধীন রাফি ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি পক্ষ থেকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন শাখায় একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে বাস টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট নেই। টয়লেট সংকটের কারণে প্রায়ই যাত্রীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এই চিঠির প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছি যে বাগানের গাছ কেটে টয়লেট নির্মাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বর্তমানে বাস টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য ৫ টি টয়লেট রয়েছে। এর মধ্যে ১ টি টয়লেট টিপটপ অবস্থায় রয়েছে। বাকি ৪ টি টয়লেট ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী। ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে টয়লেটগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টয়লেটগুলো সিটি কর্পোরেশন সংস্কার করে দেবে। বাগানের সামনে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পথচারীদের প্রস্রাব করার ঘটনা রোধ করতে এর দেয়াল অর্ধেক ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য কেউ একটিও গাছ কাটতে পারবে না। সামনের উঁচু দেয়াল অর্ধেক করে দেওয়া হলে পথচারীরা লজ্জায় আর প্রস্রাব করবেন না।’
ইত্তেফাক/এএএম